
মিথ্যা অভিযোগ ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ‘জীবন তরী সমাজকল্যাণ সংস্থা’র পরিচালক মো. মারুফ হোসেন। তিনি দাবি করেন, একটি বিশেষ চক্র তার ব্যক্তিগত ইমেজ ও দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মারুফ হোসেন জানান, তার প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের অধীনে প্রতি তিন মাসে ৩৫০ জন বেকারকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। গত বছরের মে মাসে সোনিয়া জামান নামে এক নারী বিউটিফিকেশন লেভেল-৩ কোর্সে ভর্তি হন। ১৭ মে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পরীক্ষায় তিনি ব্যবহারিক অংশে (নাক-কান ফোটানো) অকৃতকার্য হন। এই পরীক্ষা জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (NSDA) প্রতিনিধিরা গ্রহণ করেন, যেখানে তার হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, পরীক্ষায় ফেল করার পর সোনিয়া জামান তাকে পাশ করিয়ে দেওয়ার জন্য অনৈতিক অনুরোধ করেন। সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করায় প্রায় সাত মাস পর সোনিয়া জামান ও তার স্বামী আরিফুল ইসলাম বিভিন্ন দপ্তরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করতে শুরু করেন।
মারুফ হোসেন আরও বলেন, সোনিয়া জামানের স্বামী আরিফুল ইসলাম তাকে ফোন করে ‘দেখে নেওয়ার’ এবং প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। পরবর্তীতে গত বছরের ১৬ নভেম্বর তারা আরএমপি পুলিশ কমিশনার এবং ১৭ ও ২৪ নভেম্বর জেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, তিনি সোনিয়া জামানকে কুপ্রস্তাব দিয়েছেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল করিয়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, এই চক্রের সঙ্গে কাশিয়াডাঙ্গা থানার এক বরখাস্তকৃত পুলিশ সদস্যের স্ত্রী সীমা খাতুন জড়িত। সীমা খাতুন বিভিন্ন সময় ফোন করে এবং টিকটকের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মারুফ হোসেন জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সমাজসেবা অধিদপ্তর ইতোমধ্যে বিষয়টির তদন্ত সম্পন্ন করেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে তিনি জেনেছেন, তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে প্রভাবশালী একটি মহল রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে তদন্ত প্রতিবেদন পরিবর্তনের চেষ্টা করছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, সোনিয়া জামান লেভেল-২ পরীক্ষায় পাশ করার সময় কোনো অভিযোগ না থাকলেও লেভেল-৩ এ নিজের অযোগ্যতার কারণে ফেল করার পরই কেন এসব কাল্পনিক অভিযোগ তোলা হচ্ছে?
বক্তব্যের শেষে মারুফ হোসেন বলেন, বিধি অনুযায়ী পরীক্ষায় ফেল করলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আপিল করার সুযোগ থাকলেও সোনিয়া জামান তা করেননি। বরং সাত মাস পর এসে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সত্য তুলে ধরতে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।