
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপির দুই প্রধান অংশ—উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের অনুসারী এবং বিএনপি নেতা কায়কোবাদ গোষ্ঠী—মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে পাল্টাপাল্টি প্রচারণা, আর সরাসরি সভা-সমাবেশে চলছে দোষারোপ।
গত ৩ জুলাই কুমিল্লার মুরাদনগরের বাঙ্গুরা বাজার এলাকায়, মাদক চোরাকারবারের অভিযোগ তুলে একই পরিবারের তিনজনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন—রুবি আক্তার, তার ছেলে রাসেল ও মেয়ে জোনাকি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও জীবিত সদস্য রিক্তা আক্তার জানান, তার সামনেই পরিবারের সদস্যদের কুপিয়ে ও পাথর দিয়ে থেঁতলে হত্যা করা হয়।
পরদিন নিহত রুবির মেয়ে রিক্তা আক্তার বাদী হয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাহসহ ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে ও ২৫ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর যৌথ অভিযানে আটজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব ও সেনাবাহিনী।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিক্তা আক্তার অভিযোগ করেন—হত্যা মামলার মূল আসামিরা উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বাবার আশ্রয়ে রয়েছে, এ কারণে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। একই অভিযোগ করেন তার ভাবী মীম আক্তার।
নিহত জোনাকির স্বামী মনির জানান, “পরিবারের ৩ জনকে হারিয়ে রিক্তা এখন ভারসাম্যহীন। কায়কোবাদ গোষ্ঠীর চাপে সে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উপদেষ্টার নাম নিয়েছে। প্রথম সাক্ষাৎকারে সে এমন কিছু বলেনি।”
ঘটনার প্রেক্ষিতে ফেসবুকে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি লেখেন—
“মুরাদনগরে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় কায়কোবাদ সাহেবের ভাই শাহ জুন্নুন বুশরী জড়িত। অথচ এখন আমার নাম জড়ানো হচ্ছে। গত তিন মাস আমি বা আমার পরিবার এলাকায়ই যাইনি। প্রথম সাক্ষাৎকারে রিক্তা আমাদের নাম নেয়নি, এখন কনভিন্স করে বলানো হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন,
“কোর্ট ও সরকারের সিদ্ধান্তে মেয়র হতে না পারায় ইশরাক ভাই কায়কোবাদ গোষ্ঠীর সঙ্গে মিলে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। আমি এমপি হতে চাইনি, মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছি। মিডিয়া ও মাফিয়া এস্টাবলিশমেন্ট এখন আমাকে ভিলেন বানাতে উঠেপড়ে লেগেছে।”
হত্যাকাণ্ডের জেরে মুরাদনগরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে পৌঁছেছে।
এই অবস্থায় সোমবার (২৮ জুলাই) উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম সরকারকে গ্রেপ্তার করে জেলা ডিবি পুলিশ।
ডিবি পুলিশের দাবি,
“হত্যাকাণ্ডে বিএনপি নেতা শাহ আলমের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। রিমান্ডে থাকা অন্যান্য আসামিরাও তার নাম জানিয়েছে।”
তবে স্থানীয়রা মনে করছেন,
“এই গ্রেপ্তার মূল ঘটনা থেকে দৃষ্টি ঘোরাতে এবং রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেই করা হয়েছে।”
৩ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মুরাদনগর উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের কড়ইবাড়ি গ্রামে, মাদক কারবারের অভিযোগে অভিযুক্ত রোকসানা আক্তার রুবির বাড়িতে হামলা চালানো হয়।
তিনজন নিহত হন, আহত হন রুবির আরেক মেয়ে রুমা আক্তার, যিনি এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় উচ্চতর মহলের প্রভাবশালী নাম আসায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সাধারণ মানুষ।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।