
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় খাস জমি উদ্ধারের নামে ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত জমি কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। গত ১৮ জানুয়ারি এ অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মাঘান-সিয়াধার ইউনিয়নের গলগলি মল্লিকপুর মৌজার সাড়ে তিন একর খাস জমি পাশ্ববর্তী রতিখালি গ্রামের ভূমিহীন শাহিন মিয়া, আঙ্গুর মিয়া, এরশাদ, রয়েল, জুয়েল, আবুল মিয়া ও হাজেরা বেগমকে ২০০৭ সালে প্রশাসন বন্দোবস্ত দেয়। এরপর থেকে তারা ওই জমিতে কৃষিকাজ ও মৎস্য চাষ করে পরিবার নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।
ওই জমির প্রায় ৫০০ গজ দূরে একটি উঁচু খাস জায়গায় ২৫–৩০ বছর ধরে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন একটি স্থান শ্মশান হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। পরবর্তীতে মল্লিকপুর গ্রামে সরকারি অর্থায়নে একটি মহা শ্মশান নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে বন্দোবস্তকৃত জমিতে কোনো বিরোধ না থাকলেও সম্প্রতি স্থানীয় প্রভাবশালীদের একটি চক্র জমিটি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে আরও জানা গেছে, গত ১ জানুয়ারি স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী তাদের লোকজন নিয়ে বন্দোবস্তকৃত জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেন। এ সময় মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। ঘটনার পর আদালতে মামলা দায়ের করা হলে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রভাবশালীরা প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের বন্দোবস্তকৃত জমিতে ‘গো-চারণ ভূমি’ উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টানান বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
ভূমিহীন পরিবারগুলোর দাবি, তাদের বন্দোবস্তকৃত জমিতে স্থানীয় মাদক কারবারিরা আস্তানা গড়তে চেয়েছিল। এতে বাধা দেওয়ায় প্রভাবশালীদের সঙ্গে মিলে তাদের বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। দখল উচ্ছেদকে পাকাপোক্ত করতে সাম্প্রদায়িক ইস্যু তৈরি করে তাদের কণ্ঠ স্তব্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এসব নিয়ে লাগাতার হুমকি-ধমকির কারণে পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদের বলেন, “গোচারণভূমি দখল করে বেড়া দিয়ে তারা নিজেদের মতো ব্যবহার করছিল। তাই সেগুলো উচ্ছেদ করে গোচারণভূমি চিহ্নিত করে ব্যানার টানানো হয়েছে। তাদের বন্দোবস্তের জায়গা অনেকটা দূরে। তাদের জায়গা তাদেরই রয়েছে।”
জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, “অভিযোগটি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।