
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার সহিলদেও স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রটি অনিয়মিতভাবে চালু-বন্ধ থাকার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সরকারি সময়সূচি উপেক্ষা করে কেন্দ্র পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির মূল ফটকে তালা ঝুলছে। এ সময় কেন্দ্রটি খোলা থাকার কথা থাকলেও সেবা নিতে আসা কয়েকজন রোগীকে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে দেখা যায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রটিতে একজন মিডওয়াইফারি নার্স স্থায়ীভাবে নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দুইজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) রোস্টার ডিউটিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত। তবে বাস্তবে এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা নিজেদের সুবিধামতো সময় নির্ধারণ করে কেন্দ্রে আসেন। কখনো একদিন সেবা দেওয়া হলেও পরবর্তী ৭ থেকে ১৫ দিন কেন্দ্রটি বন্ধ থাকে। খোলা থাকলেও কয়েক ঘণ্টা পরই কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সহিলদেও গ্রামের বাসিন্দা লাহুত মিয়া বলেন, “স্বাস্থ্যকেন্দ্র হওয়ার পর ভেবেছিলাম উপকার পাব। কিন্তু ৭-১৫ দিনে একদিন খোলে, তাও কয়েক ঘণ্টা পর বন্ধ হয়ে যায়।”
নেহেরা আক্তার বলেন, “জরুরি দরকারে গেলেও কেন্দ্র খোলা পাই না। ওষুধও পাওয়া যায় না।”
সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শেফালী আক্তার জানান, বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
এ বিষয়ে দায়িত্বরত কর্মী শিল্পী বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মোমেনুল ইসলাম বলেন, “কেন্দ্রে একজন মিডওয়াইফারি নার্সসহ রোস্টারভিত্তিক জনবল রয়েছে। অনুপস্থিতির বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এ স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে সেবা পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।