দেশের সাধারণ আমের মৌসুম শেষ হলেও বরেন্দ্র অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন দৃশ্য। এখানকার বাগানগুলোতে এখনো ঝুলছে সুস্বাদু কাটিমন আম। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও রাজশাহীর গ্রামীণ সড়কজুড়ে শত শত বাগানে থোকায় থোকায় আম ঝুলে থাকায় মনে হচ্ছে যেন নতুন করে শুরু হয়েছে আমের মৌসুম।
কৃষিবিদদের মতে, কাটিমন বা সুইট কাটিমন হলো থাইল্যান্ড থেকে আনা একটি প্রজাতি। দেশীয় জাতের বাইরে সারাবছর চাষযোগ্য হওয়ায় এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা অনেক। মৌসুমের বাইরে বাজারে আমের চাহিদা থাকায় দামও তুলনামূলক বেশি। চাষিরা বছরে দু’বার আম সংগ্রহ করতে পারেন, তাই দিন দিন বাড়ছে কাটিমন চাষে আগ্রহ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আমনুরা থেকে নাচোল-আড্ডা, নওগাঁর পোরশা-নিয়ামতপুর এবং রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা-কলমা সড়ক পর্যন্ত দুই পাশে এখন সারি সারি কাটিমন বাগান চোখে পড়ে। নাচোল উপজেলার লক্ষিপুর মোড়ের এক বাগানে দেখা যায়—ছোট গাছে ঝুলছে টসটসে আম, যা পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ছে।
বাগান মালিক টি ইসলাম জানান, সাত বিঘা জমিতে শুরু করলেও বর্তমানে সাতটি বাগানে তার ১৫ থেকে ১৬ হাজার গাছ রয়েছে। সবগুলোতেই ফলন আসছে। বাজারে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি আম ২০০–৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বছরে দু’বার ফল সংগ্রহ করে তিনি কয়েক লাখ টাকা আয় করছেন।
রাজশাহীর তানোর উপজেলার কৃষক তাবারক হোসেন বলেন, আগে তিনি দেশি জাতের আম যেমন—গোপালভোগ, নেংড়া ও ঘিরসা—চাষ করতেন। কিন্তু খরচের তুলনায় লাভ না হওয়ায় সেগুলো কেটে ফেলেন। এখন ২৫ বিঘা জমিতে আড়াই হাজার কাটিমন গাছ করেছেন এবং চলতি বছরই ভালো ফলনের আশা করছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের কৃষিবিদ ড. জহুরুল ইসলাম জানান, পরীক্ষামূলক সফলতার পর কাটিমন চাষ নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হর্টিকালচার সেন্টার ও নার্সারির মাধ্যমে এই জাতের চারা ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিরা সবচেয়ে বেশি আগ্রহী।
তিনি আরও বলেন, কাটিমন চাষে বাড়তি যত্ন প্রয়োজন। এটি শুষ্ক আবহাওয়ার ফসল হওয়ায় দেশি আমের তুলনায় আলাদা পরিচর্যা লাগে। মৌসুমের বাইরে ফলন চাইলে মূল মৌসুমে আসা মুকুল বা গুটি ছেঁটে দিতে হয়, যাকে বলা হয় প্রুনিং—যা কাটিমন চাষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
বর্তমানে বরেন্দ্র অঞ্চলের গ্রামীণ সড়ক দিয়ে যেকোনো পথচারী গেলেই দেখতে পাবেন আমে ভরা ছোট-বড় বাগান। মৌসুম শেষ হলেও গাছে ঝুলে থাকা কাটিমন আম মনে করিয়ে দিচ্ছে—বরেন্দ্রে যেন বারোমাসই আমের উৎসব।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।