সারাদেশ

রংপুরের চার খুন: সিদ্ধার্থ-মুগ্ধর ডোপ টেস্টে মাদক মেলেনি

  মো: সাকিব চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার  ৩১ আগস্ট ২০২৬ , ৫:৪৩:৫৮ প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
রোববার রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে তাঁদের মূত্রের নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষা করা হয়।
সোমবার (৩১ আগষ্ট) দুপুরে সেই পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
রংপুর মহানগর ডিবির উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে দুই আসামির ডোপ টেস্টের প্রতিবেদন পাওয়া যায়। পরীক্ষার ফলাফলে তাঁদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
তবে ঘটনার আট দিন পর মূত্রের নমুনা পরীক্ষা করায় ফলাফলে মাদকের অস্তিত্ব না পাওয়াটা অস্বাভাবিক নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দুই-তিন দিনের মধ্যে পরীক্ষা করা হলে মূত্রে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি ছিল।
পুলিশ জানায়, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডোপ টেস্টের জন্য মূত্র পরীক্ষা করা সম্ভব হলেও বর্তমানে সেখানে চুল বা রক্তের নমুনা পরীক্ষার সুযোগ নেই।
এর আগে পুলিশ দাবি করেছিল, হত্যাকাণ্ডের আগে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ মাদক সেবন করেছিলেন। আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতেও তাঁরা হত্যার আগে ইয়াবা সেবনের কথা বলেছেন। ফলে ডোপ টেস্টে মাদক না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে ডিবির উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রোববার ডিবির একটি দল রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন টেকনোলজিস্টকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রীয় কারাগারে যায়।
নিরাপত্তাজনিত কারণে আসামিদের কারাগারের বাইরে না এনে সেখানেই তাঁদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের বাইরে আনা হলে হামলা বা মব তৈরির আশঙ্কা ছিল।
সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস ইতিমধ্যে আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে তাঁরা রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।
গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পর প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রংপুর নগরের কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
ডোপ টেস্টের ফল, আদালতের জবানবন্দি ও পুলিশের বক্তব্য-এই তিনটি বিষয় এখন তদন্তে কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়, সেটিই সামনে আসতে পারে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে।

আরও খবর

Sponsered content