টানা বৃষ্টি আর কৃষকের হাতে পেঁয়াজের মজুত কমে যাওয়ার সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে পেঁয়াজ সিন্ডিকেট। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আড়ৎদার, এজেন্ট, বেপারি ও মধ্যস্বত্বভোগীরা প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। দুই সপ্তাহ আগে ৪৫-৫৫ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন মানভেদে ৮৫ থেকে ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বুধবার (১৩ আগস্ট) রংপুর সিটি বাজার, কামাল কাছনা বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরবরাহ ও উৎপাদন কম থাকায় সবজি, পেঁয়াজ, ডিম ও মাছের দাম একযোগে বেড়ে গেছে। বিক্রেতাদের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের তুলনায় সবজির দাম কেজিপ্রতি গড়ে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে।
গত সপ্তাহে প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হয়েছে ১৩০-১৪০ টাকায়, যা এখন ১৫৫ টাকা। সবজির মধ্যে মিষ্টি কুমড়া ও পেঁপে বাদে ৬০ টাকার নিচে কোনো কেজি নেই। কাঁচামরিচ ২০০, দেশি শশা ১০০, বেগুন ১০০-১২০, করলা ১২০, গাজর (এলসি) ১২০-১৩০, লাউ ৬০-৭০, চিচিঙ্গা ৬০, বরবটি ১০০-১২০, ঢেঁড়শ ৮০, পটল ৬০, কাঁকরোল ৮০, মুলা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও আগুন। মাঝারি সাইজের রুই ৩৫০-৪০০, পাঙাস ২০০-২৫০, তেলাপিয়া ২৫০-২৮০, দেশি শিং ৭০০-৭৫০, পাবদা ৫০০-৬০০, চিংড়ি ৭০০-৮০০ এবং এক কেজির ওপরে ইলিশ ২৩০০-২৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি এবং উজানের পানিতে পুকুর-ঘের তলিয়ে যাওয়ায় মাছের সরবরাহ কমে গেছে। অন্তত দেড় মাস দাম বেশি থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে চাল, আলু, রসুন ও মুরগির বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল। আলু ৩০-৩৫, রসুন ২০০-২২০, দেশি আদা ২৩০-২৫০, ফার্মের মুরগি ১৭০-১৮০, সোনালি ৩২০-৩৫০, গরুর মাংস ৭৫০-৮০০ এবং খাসির মাংস ১১৫০-১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজার করতে আসা রাজিয়া সুলতানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ডিম, মাছ, সবজি, পেঁয়াজ—সবকিছুর দামই বেড়েছে। বাজারের হিসাব মিলছে না, তাই বাধ্য হয়ে কম নিতে হচ্ছে। সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।”
রংপুর সিটি বাজারের মুদি ব্যবসায়ী নিলয় বলেন, “পেঁয়াজের দাম হঠাৎ ৪০ টাকা বেড়েছে, যা ক্রেতাদের জন্যও, বিক্রেতাদের জন্যও বিব্রতকর। আমরা পাইকারি কিনে সামান্য লাভে বিক্রি করি, দাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা আমাদের হাতে নেই।”
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।