
হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় রমজানের শুরুতেই বাজারে আসতে শুরু করেছে তরমুজ। তবে তরমুজ কেজি দরে বিক্রি হওয়ায় এর দাম দাঁড়িয়েছে কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, যা সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, কখনো ১০০ টাকা আবার কখনো ১২০ টাকা কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। এতে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফা লাভ করলেও ক্রেতারা পড়ছেন ভোগান্তিতে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাঁঠাল, কলা ও তরমুজের মতো যেসব ফলে সাধারণত ৩০–৪০ শতাংশ অংশ বাদ যায়, সেগুলো কেজিতে নয়, পিস হিসেবে বিক্রি হওয়াই প্রচলিত। কেজি দরে বিক্রির ফলে ক্রেতারা ওজনে ও দামে উভয় দিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তুলা গ্রামের ফল ক্রেতা সবুজ আলী বলেন, “মনে হচ্ছে আমরা ফারাওনের যুগে চলে গেছি, কারণ তরমুজ তখনই কেজিতে বিক্রি হতো। ১২০ টাকা কেজিতে তরমুজ কেনা আমার সাধ্যের বাইরে।”
পাখিভ্যান চালক ছের আলী বলেন, “তরমুজের দাম এত বেশি যে আমাদের মতো মানুষের পক্ষে কিনে খাওয়া সম্ভব নয়।”
রমজানের বাজার করতে আসা ফলসী গ্রামের রিক্তা খাতুন জানান, “১০০ টাকা কেজিতে খুব ছোট একটি তরমুজ কিনেছি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সমাজ সংস্কারক জানান, পাঁচ কেজি ওজনের একটি তরমুজ কিনে তিনি ৪০০ টাকা দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন।
শ্রামপুর গ্রামের গোলাপী খাতুন বলেন, “দাম বেশি হওয়ায় ছোট তরমুজ কিনেছি, কিন্তু কেজিতে বিক্রি করায় ঠকেছি।”
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র হরিণাকুণ্ডু উপজেলা সভাপতি আবুল হাসান মাস্টার রমজানে তরমুজ কেজি দরে বিক্রির ঘটনায় ধিক্কার ও নিন্দা জানান।
অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী হরিণাকুণ্ডু বাজারের তরমুজ ব্যবসায়ী শীলন আলী কেজি দরে বিক্রির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তিনি শৈলকুপা উপজেলার গাড়াগঞ্জ বাজার থেকে কেজিপ্রতি ৭৫ টাকা দরে তরমুজ কিনে এনেছেন, তাই কেজিতেই বিক্রি করছেন।
এ বিষয়ে মোহাম্মদ দিদারুল আলম, হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করি। আজও বাজার মনিটরিং করা হবে। কেজিতে তরমুজ বিক্রির বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।