রাজশাহী মহানগরীতে র্যাব-৫ এর একটি অভিযানিক দলের সদস্যদের লাঞ্ছিত করে আলী নামের এক চিহ্নিত মাদক মামলার আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবক সৈকত ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বোয়ালিয়া মডেল থানার খরবোনা এলাকায় রিভারইন ছাত্রাবাসের বিপরীতে মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, র্যাব সদস্যরা আলীকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তা অবরোধ করে একদল যুবক র্যাবের গাড়ি ঘিরে ফেলে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে আলীকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে যায় তারা।
এ সময় শতাধিক মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং অনেকে মোবাইলে পুরো ঘটনাটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ভিডিও ফুটেজ নিয়ে ইতোমধ্যে নগরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নগরীর বিভিন্ন পাড়া–মহল্লায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের অবাধ বিস্তার ঘটেছে। কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় স্বাভাবিক পারিবারিক পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। এরই মধ্যে একাধিক মাদক মামলার আসামি আলীকে র্যাবের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “মাদকের ব্যবসা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যখন অভিযান চালাচ্ছে, ঠিক তখনই দলীয় পরিচয়ে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি প্রকাশ্যে আসামি ছিনিয়ে নিচ্ছে—এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি।”
এ বিষয়ে জানতে র্যাব-৫ এর অভিযানে থাকা একজন সদস্য নূর-এ-আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংক্ষেপে বলেন, “স্যারের সাথে কথা বলে পরে জানাচ্ছি,” এ কথা বলে ফোন কেটে দেন।
ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া না হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা এবং আসামি ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।