
বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় অপারেশনের পর মালেকা বেগম (৬০) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জনমত। বাঘা থানার মোড় সংলগ্ন সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। মৃত মালেকা বেগম বাঘা পৌরসভার উত্তর মিলিক বাঘা গ্রামের বাসিন্দা এবং খোরশেদ আলীর স্ত্রী।
সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৫ জুলাই) রাত আনুমানিক ২টার দিকে জরায়ুর সমস্যাজনিত কারণে মালেকা বেগমের অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর থেকেই তিনি তীব্র যন্ত্রনায় কাতরাতে থাকেন। পরিবারের অভিযোগ, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে অবহেলা করে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দিয়ে সময় ক্ষেপণ করে।
স্বজনদের দাবি, মালেকা বেগম অপারেশনের কিছু সময় পরই মারা যান। কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রেখে রোগীকে অক্সিজেন দিয়ে কৃত্রিমভাবে জীবিত দেখিয়ে শনিবার (২৬ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে রাজশাহী মেডিকেলে রেফার করার পরামর্শ দেয়। সন্দেহ হলে স্বজনরা সেখানেই মালেকা বেগমের মৃত্যু নিশ্চিত হন এবং জানতে পারেন, তিনি প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা আগেই মারা গেছেন।
ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা ক্লিনিক ঘেরাও করে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং ভেতরে থাকা অন্য দুইজন রোগীকেও বের করে দেয়। এ সময় ক্লিনিকের মালিক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা গা-ঢাকা দেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাঘা থানার মোবাইল টিমের এসআই রবিউল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এছাড়া বিএনপি নেতা মুখলেছুর রহমান মকুল, আব্দুল লতিফ, আজমুল, সেলিমসহ একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি পরিস্থিতি শান্ত করতে ভূমিকা রাখেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেবা ক্লিনিকটি দীর্ঘদিন ধরে অস্বাস্থ্যকর ও অনিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে। ক্লিনিকটি এমন একটি এলাকায় অবস্থিত, যেখানে পাশে কোচিং সেন্টার ও বাজার রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। এছাড়াও বাতাস চলাচলের অনুপযোগী স্থানে রোগী রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করেন, ক্লিনিকের আশেপাশে একটি দালাল চক্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, যারা কমিশনের বিনিময়ে অসচেতন রোগীদের ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়ে আসে।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ক্লিনিক মালিক জিল্লুর রহমান বলেন, “রাত ২টার দিকে তিনজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক কয়েকটি অপারেশন করেন। রোগীরা অপারেশনের পর ভালোই ছিলেন। রাত ৪টার দিকে আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিই। পরে কী ঘটেছে, তা আমি জানি না।”
তিনি আরও দাবি করেন, “মৃত রোগীর স্বজনদের কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়রা ক্লিনিকের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, এমন অনিয়ম ও গাফিলতির মাধ্যমে আর কারো জীবন যেন না ঝরে পড়ে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।