কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইরি–বোরো ধানের চাষাবাদ পুরোদমে শুরু হয়েছে। জমি প্রস্তুত ও ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার কৃষক-কৃষাণীরা।
ইরি–বোরো ধানের চারা রোপণের জন্য অনেক কৃষক ট্রাক্টর দিয়ে হাল চাষ করে জমি উর্বর করে নিচ্ছেন। আবার কোথাও মহিষ, গরু ও ঘোড়া দিয়ে মই টেনে কিংবা নিজেরাই মইয়ের ওপর গাছের গুড়ি বসিয়ে কাদামাটির জমি সমান করে চারা রোপণের উপযোগী করে তুলছেন। এ মৌসুমে কোনো কৃষক-কৃষাণীই ঘরে বসে থাকছেন না; সবাই মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রাজারহাট উপজেলায় ১২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে ইরি–বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ জমিতে চাষাবাদের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। অনেক স্থানে বিভিন্ন জাতের ইরি–বোরো ধানের চারা রোপণও করা হচ্ছে। চাকিরপশারতালুক গ্রামের কৃষক সোলায়মান আলী, পাঠক গ্রামের জাকির হোসেন ও মানিক মিয়া, রতিরাম কমলওঝাঁ গ্রামের স্বর্ণকমল মিশ্র ও অজুর্ণ মিশ্র গ্রামের দুলাল কার্জ্জী জানান, জানুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকেই বোরো চাষাবাদ পুরোপুরি শুরু হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা বলেন, জমি প্রস্তুতের জন্য ট্রাক্টরের পাশাপাশি অনেক জমিতে সেচের পানি দিয়ে হাল চাষ করে মহিষ, গরু ও ঘোড়া দিয়ে মই টেনে জমি সমান করা হচ্ছে। সরিষা ফসল উত্তোলনের পরও অনেক জমিতে ইরি–বোরো ধানের চারা রোপণ করা হবে।
কৃষকরা আরও জানান, সম্প্রতি প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশায় ইরি–বোরোর কিছু বীজতলা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে হাট-বাজারে ধানের চারা পর্যাপ্তভাবে ওঠেনি, ফলে বিভিন্ন জাতের চারা সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি কৃষিশ্রমিক, হাল চাষ, সার ও সেচ ব্যয়ও বাড়ছে। তবে খরচ বাড়লেও কৃষকরা চাষাবাদে পিছপা হচ্ছেন না।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন্নাহার সাথী বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইরি–বোরো ধান চাষে জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণের কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৫৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধানের চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই চারা রোপণের কাজ শেষ হবে। অধিক ফলনের জন্য কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।