
বাংলার হাজার বছরের লোকজ ঐতিহ্য, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও উৎসবের চিরচেনা আবহে প্রাণ ফিরে পেয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা। বর্ণিল আয়োজন, মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ৩৩তম বৈশাখী মেলা।
সোমবার (১১ মে) রাত ৯টায় পৌর শহরের ডিগ্রি কলেজ মাঠে ১০ দিনব্যাপী এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পৌর বিএনপির সভাপতি ও মেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শাহাজাহান আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেলার মূল ফটকে ফিতা কেটে এবং মাঠে বর্ণিল বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান।
উদ্বোধনের পরই করতালি, উচ্ছ্বাস ও আনন্দধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ। দর্শনার্থীদের পদচারণায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে মাঠ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ, সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা যেন পরিণত হয় এক প্রাণের মিলনমেলায়। রঙিন আলোকসজ্জা, বৈশাখী সাজসজ্জা ও লোকজ আবহ মেলাকে দিয়েছে অনন্য সৌন্দর্য।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আল্লামা আল ওয়াদুদ বিন নূর আলিফ, বৈশাখ উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সাংসদ ইয়াসিন আলী, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহসিন আলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজন। বৈশাখের ঐতিহ্যবাহী গান, লোকসংগীত ও আদিবাসী নৃত্যের পরিবেশনায় মুগ্ধ হন দর্শনার্থীরা। ঢোল, বাঁশি ও দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের তালে শিল্পীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় পুরো মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর আবহ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার বসাক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহিদুর রহমান বলেন, “বৈশাখী মেলা শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়, এটি বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। নতুন প্রজন্মকে দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”
তিনি আরও বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক লোকজ ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই দেশীয় সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
মেলা আয়োজকরা জানান, এবারের বৈশাখী মেলায় প্রায় ২০০টি স্টল বসেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত বিক্রেতারাও অংশ নিয়েছেন। মেলায় খেলনা, মাটির সামগ্রী, বাঁশ ও বেতের হস্তশিল্প, দেশীয় পোশাক, কসমেটিকস, গৃহস্থালি সামগ্রী এবং বাহারি খাবারের দোকান স্থান পেয়েছে। শিশুদের বিনোদনের জন্য নাগরদোলা, ট্রেনসহ বিভিন্ন রাইডেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, এমন আয়োজন গ্রামীণ জনপদে আনন্দের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় এসে তারা আনন্দঘন সময় কাটাচ্ছেন।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১০ দিন প্রতিদিন সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকজ পরিবেশনা, সংগীতানুষ্ঠান ও নানা বিনোদনমূলক আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। ফলে পুরো সময়জুড়ে রাণীশংকৈলের মানুষ উৎসবের আমেজে মেতে থাকবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।