ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচটি ছিল রেকর্ডের মেলা। ম্যাচ শেষে চোখে পড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানগুলো এক নজরে-
২৭১/৫ (ভারত): টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে যে কোনো দলের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। আগের রেকর্ড ছিল ২০১৮ সালে অকল্যান্ডে অস্ট্রেলিয়ার ২৪৫/৫। এটি কোনো পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে হজম করা পঞ্চম সর্বোচ্চ রান, যার মধ্যে শীর্ষ পাঁচের তিনটিই ভারতের বিপক্ষে।
ওভার ১১–২০ এ ১৬৯/৩: পূর্ণ সদস্য দলের বিপক্ষে শেষ ১০ ওভারে সর্বোচ্চ রান। আগের রেকর্ড ছিল ২০২৪ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারতের ১৬০/১। ১০ ওভারে ভারত ছিল ১০২/২, এরপর ১১–১৫ ওভারে ৮৬ ও ১৬–২০ ওভারে ৮৩ রান তোলে।
৪৯৬ রান (ম্যাচ অ্যাগ্রিগেট): টি–টোয়েন্টি ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ম্যাচ মোট রান। সর্বোচ্চ ৫১৭ রান হয়েছিল ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়নে দক্ষিণ আফ্রিকা–ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে। ভারতের মাটিতে আগের সর্বোচ্চ ছিল ২০১৯ সালে দেরাদুনে আফগানিস্তান–আয়ারল্যান্ড ম্যাচে ৪৭২।
২৩টি ছক্কা (ভারত): পূর্ণ সদস্য দলের বিপক্ষে এক ইনিংসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ছক্কা। ২০২৪ সালে জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও ভারত ২৩টি ছক্কা মেরেছিল। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৩৬টি ছক্কা—টি–টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (সর্বোচ্চ ৪১, বুলগেরিয়া–জিব্রাল্টার, ২০২৫)।
৬৯টি ছক্কা (সিরিজ): যে কোনো দৈর্ঘ্যের দ্বিপাক্ষিক সিরিজে কোনো দলের সর্বোচ্চ ছক্কা। আগের রেকর্ড ছিল ২০২৩ ও ২০২৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ৬৪টি করে। পূর্ণ সদস্য দলের ক্ষেত্রেও এটি সর্বোচ্চ।
৪২ বলে সেঞ্চুরি (ঈশান কিষান): নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি–টোয়েন্টিতে দ্রুততম শতক। আগের দ্রুততম ছিল ৪৪ বলে (২০২৫ সালে কুশল পেরেরা ও হাসান নওয়াজ)। ভারতের হয়ে এটি পঞ্চম দ্রুততম।
৩০০০ রান পেতে ১৮২২ বল (সূর্যকুমার যাদব): বলের হিসাবে টি–টোয়েন্টিতে দ্রুততম ৩০০০ রান। আগের রেকর্ড ছিল ইউএই’র মুহাম্মদ ওয়াসিমের (১৯৪৭ বল)। পূর্ণ সদস্য দলের মধ্যে আগের সেরা ছিল জস বাটলার (২০৬৮ বল)।
৩য় উইকেটে ১৩৭ রান (৫৭ বলে): সূর্যকুমার–ঈশান জুটির এটি ভারতের টি–টোয়েন্টিতে তৃতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ। আগের রেকর্ড ছিল ২০১৬ সালে অ্যাডিলেডে কোহলি–রায়নার ১৩৪।
পাওয়ারপ্লেতে ৭৯/১ (নিউজিল্যান্ড): ভারতের বিপক্ষে টি–টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ পাওয়ারপ্লে স্কোর। তারা ৫০ রান ছুঁয়েছে মাত্র ৩.১ ওভারে-দভারতের বিপক্ষে দ্রুততম দলীয় ফিফটি।
ফিন অ্যালেনের ৫৭: পাওয়ারপ্লেতে ভারতের বিপক্ষে কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ রান। তিনি ভারতের বিপক্ষে পাওয়ারপ্লেতেই ফিফটি করা চতুর্থ ব্যাটার।
৫/৫১ (আর্শদীপ সিং): টি–টোয়েন্টি ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল পাঁচ উইকেট। আগের রেকর্ড ছিল ২০২৩ সালে আলজারি জোসেফের ৫/৪০। আর্শদীপ প্রথম স্পেলে দেন ৪০ রান, শেষ দুই ওভারে নেন ৪/১১।
১৩তম ঘটনা: একই ম্যাচে একটি ব্যক্তিগত শতক ও একটি পাঁচ উইকেট-টি–টোয়েন্টিতে মোট ১৩ বার ঘটেছে। ভারতের ক্ষেত্রে এটি চতুর্থ; অন্য কোনো দল একাধিকবার পারেনি।
০/৫৮ (জসপ্রিত বুমরাহ): ২৬২ ম্যাচের টি–টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে তার সবচেয়ে ব্যয়বহুল বোলিং। এক ওভারে দিয়েছেন ২২ রান-টি–টোয়েন্টিতে তার ব্যক্তিগত সবচেয়ে খরচা ওভার।
এই ম্যাচটি শুধু সিরিজের শেষ নয়, পরিসংখ্যানের পাতায়ও জায়গা করে নিল এক ঐতিহাসিক অধ্যায় হিসেবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।