আইপিএল ইতিহাসে ২২০ বা তার বেশি রান তাড়া করে কখনো জিততে পারেনি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। সাতবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিল দলটি। পাশাপাশি ২০১২ সালের পর থেকে আসরের প্রথম ম্যাচেও জয়ের দেখা পায়নি তারা। কিন্তু ২০২৬ মৌসুমে এসে একসঙ্গে ভাঙল দুই অভিশাপ—১৯.১ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২২১ রান তুলে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে ৬ উইকেটে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করল মুম্বাই।
এই জয়ের নায়ক রোহিত শর্মা ও রায়ান রিকেলটন। রোহিত ৩৮ বলে ৭৮ রান করেন, আর রিকেলটন ৪৩ বলে ৮১ রান করে দারুণ এক জুটি গড়েন। দুজনে মিলে প্রথম উইকেটে মাত্র ৭১ বলে ১৪৮ রান তুলে জয়ের ভিত গড়ে দেন।
কলকাতার বোলিং আক্রমণ শুরু থেকেই ছিল দুর্বল। বৈভব অরোরা ও ব্লেসিং মুজারাবানি ছিলেন নিষ্প্রভ, বরুণ চক্রবর্তী তেমন কার্যকর হতে পারেননি, আর সুনীল নারাইন ছিলেন ছন্দহীন।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে কলকাতা ৪ উইকেটে ২২০ রান তোলে। অজিঙ্কা রাহানে ৪০ বলে ৬৭ রান করেন, আর আংক্রিশ রাঘুবংশী করেন ২৯ বলে ৫১ রান। তবে এত বড় সংগ্রহও রক্ষা করতে পারেনি তারা।
ওয়াংখেড়ে যেন আবার পুরনো রোহিতকে দেখা গেল। শুরুতে ধীরগতিতে খেললেও পরে আগ্রাসী হয়ে ওঠেন তিনি। বরুণ চক্রবর্তীর বিপক্ষে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পান। মাত্র ২৩ বলে তুলে নেন নিজের দ্রুততম অর্ধশতক।
প্রথম ৬ ওভারে দল পায় ৮০ রান এবং দ্রুত ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় মুম্বাই।
অভিজ্ঞ কুইন্টন ডি ককের বদলে দলে সুযোগ পেয়ে রিকেলটন নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেন। শুরুতে সময় নিয়ে পরে ভয়ংকর হয়ে ওঠেন তিনি। বৈভব অরোরাকে টানা দুই ছক্কা মেরে আক্রমণের সূচনা করেন।
পরে সুনীল নারাইনের ওপর চড়াও হয়ে দ্রুত অর্ধশতক পূর্ণ করেন। শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত এক থ্রোতে আউট হলেও তার কাজ হয়ে গিয়েছিল।
সূর্যকুমার যাদব দ্রুত আউট হলেও হার্দিক পান্ডিয়া ও তিলক বর্মা দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত নামান ধীর জয়সূচক রান তুলে দেন।
ফিন অ্যালেন শুরুতেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন এবং হার্দিকের এক ওভারে ২৬ রান তোলেন। রাহানেও তাকে ভালো সঙ্গ দেন।
তবে পরে শার্দুল ঠাকুর গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট নিয়ে ম্যাচে ফেরান মুম্বাইকে। তিনি অ্যালেন, ক্যামেরন গ্রিন ও রাহানেকে আউট করেন।
শেষদিকে রাঘুবংশী ও রিঙ্কু সিং লড়াই চালিয়ে গেলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি।
শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটে ২২০ রান করেও হার মানতে হয় কলকাতাকে, আর দুর্দান্ত জয় দিয়ে নতুন মৌসুম শুরু করে মুম্বাই।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।