
বাংলাদেশ রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি দপ্তরের প্রধান সরকারি চৌধুরী রহমান মাহফুজের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং গ্রাহক হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কয়েকজন লাইসেন্সধারীর সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১ জুন ভিটিও ঢাকা দপ্তর থেকে বদলি হয়ে চৌধুরী রহমান মাহফুজ বাংলাদেশ রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি দপ্তরের প্রধান সরকারি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার যোগদানের পর থেকেই দপ্তরে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ বাড়তে থাকে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী অভিযোগ করেন, বাৎসরিক খাজনা পরিশোধ, লাইসেন্স নবায়ন এবং অন্যান্য সেবা গ্রহণের জন্য আগত গ্রাহকদের নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হলে কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হয়, অন্যথায় অকারণে দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি করা হয়।
এছাড়া কৃষি লাইসেন্সকে বাণিজ্যিক লাইসেন্সে রূপান্তর, বিভিন্ন টেন্ডার কার্যক্রম পরিচালনা এবং লাইসেন্স সংক্রান্ত নানা বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, কাজ করে দেওয়ার আশ্বাসে তাদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করা হলেও দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাননি।
একজন ভুক্তভোগী বলেন, “আমার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এক বছরেরও বেশি সময় ধরে নানা অজুহাতে আমাকে ঘুরানো হচ্ছে। বাধ্য হয়ে বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা শিমুল বিশ্বাস বলেন, “কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য প্রধান সরকারি চৌধুরী রহমান মাহফুজের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট মহল রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।