ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা এখন আর শুধু লিচু উৎপাদনের জন্য পরিচিত নয়; লিচুর মৌসুমে এটি পরিণত হয়েছে দর্শনার্থীদের এক প্রাণচঞ্চল মিলনমেলায়। সুস্বাদু ও রসালো লিচু, লাল মাটির টিলা এবং মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত মানুষ ছুটে আসছেন এ জনপদে।
উপজুড়েই বিস্তীর্ণ লিচুবাগান এখন দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণ। সবুজ পাতার ফাঁকে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা পাকা লিচু প্রকৃতিতে এনে দিয়েছে ভিন্নমাত্রার সৌন্দর্য। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই বাগানে ঘুরতে আসছেন, ছবি তুলছেন এবং গাছ থেকে সদ্য সংগ্রহ করা লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক পাইকার, ব্যবসায়ী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষ বিজয়নগরে আসছেন। এতে একদিকে যেমন লিচুর বিক্রি বেড়েছে, অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। উপজেলার আউলিয়া বাজারসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার লিচু বেচাকেনা হচ্ছে।
দর্শনার্থীরা জানান, প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর পাশাপাশি সরাসরি বাগান থেকে তাজা লিচু সংগ্রহের অভিজ্ঞতা তাদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। ফলে লিচুবাগানগুলো এখন শুধু কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্র নয়, বরং মৌসুমি পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কয়েক বছর আগেও বিজয়নগর মূলত কৃষিনির্ভর এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে লিচু চাষের সম্প্রসারণ এবং পর্যটকদের আগ্রহ বৃদ্ধির ফলে এখানে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এ সময়টিকে ‘লিচু উৎসবের মৌসুম’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অনুকূল আবহাওয়া এবং কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যার কারণে এ বছর উপজেলায় লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দেশি, বোম্বাই, পাটনাই ও চায়না জাতের লিচুর উৎপাদন ভালো হওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। পাশাপাশি বাজারেও তারা সন্তোষজনক দাম পাচ্ছেন।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, লাল মাটির টিলা, ফলের বাগান এবং সুস্বাদু লিচুর সমন্বয়ে ‘ফলের রাজ্য’ খ্যাত বিজয়নগর ধীরে ধীরে দেশের সম্ভাবনাময় কৃষিভিত্তিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হলে ভবিষ্যতে বিজয়নগর দেশের পর্যটন মানচিত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিতে সক্ষম হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।