
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। শাকসু নির্বাচন স্থগিত চেয়ে করা একটি রিটের প্রেক্ষিতে সোমবার দুপুরে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর আগে রোববার স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভসহ তিনজন এ রিট দায়ের করেন।
এদিকে নির্বাচন স্থগিতের হাইকোর্টের রায়ের খবর শোনার পর শিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীসহ অনেক শিক্ষার্থী বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দেন এবং সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর মঙ্গলবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। ভোটের সব প্রস্তুতি গুছিয়ে আনার মধ্যেই নির্বাচন স্থগিতের খবর পান শিক্ষার্থীরা।
রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রুহুল কুদ্দুস কাজল, রাশনা ইমাম ও মনিরুজ্জামান আসাদসহ কয়েকজন আইনজীবী। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ছিলেন মোহাম্মদ হোসাইন লিপু এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
উল্লেখ্য, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য গত ১৬ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হয়। শুরুতে ভোটগ্রহণের তারিখ ছিল ১৭ ডিসেম্বর, পরে তা পরিবর্তন করে ২০ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়।
এর মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ‘প্রভাবমুক্ত রাখতে’ গত ১২ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন এক আদেশে পেশাজীবীসহ সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন আয়োজন না করার নির্দেশ দেয়। তবে ভোটের দাবিতে অনড় থাকেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। পরে ১৫ জানুয়ারি আচরণবিধি মেনে চলার শর্তে শাকসু নির্বাচন আয়োজনের অনুমতি দেয় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।
এই সিদ্ধান্তসহ বিভিন্ন ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে রোববার থেকে নির্বাচন কমিশনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ছাত্রদল। সোমবার দুপুরে শাকসু নির্বাচন কমিশন থেকে বিএনপিপন্থি আট শিক্ষক পদত্যাগ করেন। এর পরপরই উচ্চ আদালতের আদেশে নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত আসে।
এবারের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ২৩টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯৭ জন প্রার্থী। এছাড়া ছয়টি হল সংসদে লড়ছেন ৮৪ জন প্রার্থী। প্রতিটি হল সংসদে নির্বাচনের জন্য রয়েছে ৯টি পদ। সর্বশেষ শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯৭ সালের ২৫ আগস্ট।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।