ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে দলের জন্য নির্ধারিত ৩৬ সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থীদের নামের তালিকা ঘোষণা করেছে বিএনপি।
আজ সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ প্রার্থী তালিকা ঘোষণা দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
এর আগে গতকাল রোববার চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় স্বাক্ষর করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দলের প্রার্থীরা হলেন- সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন,সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা, রেজেকা সুলতানা।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে ১২ মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল।
বাছাই নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল, আর সেই আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। চূড়ান্ত প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল। এরপর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।
আসন বণ্টনে বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াতে ইসলাম জোট ১৩টি, স্বতন্ত্ররা মিলে পাচ্ছে একটি আসন।
তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণত অতিরিক্ত প্রার্থী মনোনয়ন না দেওয়ায় প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন অর্থাৎ আগামী ২৯ এপ্রিলই প্রার্থীরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। তখন আর ১২ মে পর্যন্ত অপেক্ষার প্রয়োজন হবে না। নবনির্বাচিত সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরা শপথ নিয়ে আগামী ৩০ এপ্রিল চলতি অধিবেশনের শেষ দিনে যোগ দিতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টদের একটি সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে গত শুক্র ও শনি এই দুইদিনে বিভাগ অনুযায়ী দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেয় বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মনোনয়ন বোর্ডে দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সে ক্ষেত্রে প্রথমদিন শুক্রবারে রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও ফরিদপুর বিভাগ এবং দ্বিতীয়দিনে শনিবার ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ৩৬ আসনের বিপরীতে প্রায় ৯০০ মনোনয়নপ্রত্যাশীকে দুদিনে পৃথকভাবে দলের পার্লামেন্টারি মনোনয়ন বোর্ডে ডাকা হয়। সেখানে সংরক্ষিত নারী আসনপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত দেখেন বোর্ডের সদস্যরা। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদের প্রত্যেকের কাছে মনোনয়ন পেলে কী করবেন, আবার না পেলে কী করবেন এমন প্রশ্ন করেন।
তবে বেশিরভাগ নেত্রীই বিষয়টি তারেক রহমানের ওপর ছেড়ে দেন। তারা দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং দলের ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়নের আহ্বান জানান বলেও জানা গেছে।
গত ১০, ১১ ও ১২ এপ্রিল এই তিন দিন বিএনপি দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে। সহস্রাধিক ফরম বিক্রি এবং জমা পড়ে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের স্ত্রী, কন্যা ও পুত্রবধূ, দলের নির্বাহী কমিটিতে থাকা নারীনেত্রী, মহিলা দলের নেত্রী, শিক্ষক, আইনজীবী, ব্যাংকার, কণ্ঠশিল্লী, নৃত্যশিল্পী, লেখক ও গবেষক, ছাত্রদলের সাবেক তরুণ নেত্রীরাও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেন।
প্রতিটি মনোনয়ন ফরমের মূল্য ধরা হয় ২ হাজার টাকা। প্রার্থীদের ৫০ হাজার টাকা জামানত হিসেবে জমা দিতে হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের জন্য গত ১২ দিনে বিএনপিসহ তিনটি রাজনৈতিক দলের সমর্থন পেতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ৪৩১ জন।
সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির উপসচিব মো. মনির হোসেন জানান, রোববার বিকেল পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মাত্র তিনজন।
প্রসঙ্গত, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৩টি জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০টিতে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।