জাতীয়

সমাজের প্রত্যেকটি স্তর থেকে দুর্নীতি নির্মূল করতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  প্রতিনিধি ৩১ আগস্ট ২০২৬ , ৯:২২:৫২ প্রিন্ট সংস্করণ

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘সমাজের প্রত্যেকটি স্তর থেকে আমাদের দুর্নীতি নির্মূল করতে হবে। কারণ আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। সবাই মিলে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে জনগণের রায় নিয়েছি। কাজেই আমাদের অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।’

আজ সোমবার দুপুর ১২টায় মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইন-শৃঙ্খলা, উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিগত সময়ের নির্বাচনী ব্যবস্থার সমালোচনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগের আমলে নির্বাচনের সময় ডিসি, ইউএনও ও ওসিদের বিপুল অঙ্কের টাকা দেওয়া হতো। ইউএনওকে ন্যূনতম ৫০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা, থানার পরিধি অনুযায়ী ওসিকে এবং ডিসিকেও বিপুল অর্থ দেওয়া হতো। সব মিলিয়ে তখন ঘুষ ও দুর্নীতির মহাঅরণ্য তৈরি হয়েছিল। এবার একটি নির্বাচন হয়েছে, কেউ কি ১০ টাকা পেয়েছেন? আমি কাউকে ১০ টাকা দিইনি, কেউ চায়ওনি।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে কোনো ধরনের আর্থিক বা অনৈতিক সুবিধা নেওয়া যাবে না। অতীতে চাকরি হারানোর ভয় দেখিয়ে কিংবা অন্য কোনোভাবে কর্মকর্তাদের ওপর অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। সেই দিন এখন শেষ হয়েছে। সবাইকে ঈমান, সততা ও পবিত্রতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

স্বাস্থ্যখাত সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের স্বাস্থ্যখাতকে বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যেতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, হাসপাতালে উন্নতমানের খাবার নিশ্চিত করা এবং রোগীদের সঙ্গে ডাক্তার ও নার্সদের সুন্দর ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।’

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতে আমাদের একেবারে নিশ্চিত সততা ফিরিয়ে আনতে হবে। হাসপাতালের বিভিন্ন সেবা ও ব্যবস্থাপনায় উন্নতি করতে হবে। ঘুরেফিরে কথা একটাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স হতে হবে। দেশকে বাঁচাতে হলে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে, নেশাকে না বলতে হবে, জুয়াকে না বলতে হবে। দেশকে টিকিয়ে রাখতে এবং আমাদের সন্তানদের বাঁচাতে চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন করতে হবে।’

স্বাস্থ্যখাতে অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আগে ঠিকাদারদের মন্ত্রীর কক্ষে প্রবেশ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ ছিল। নার্স ও চিকিৎসকদের বদলির ক্ষেত্রেও লাখ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ছিল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিচালক পর্যায়েও কোটি কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। “টোটাল সিনারিও ছিল ফুল অব করাপশন’’। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে এবং আমরা ইনশাআল্লাহ বেরিয়ে আসছি।’

তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি, মাদক, জুয়া ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়। এ জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমসহ সমাজের সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, ‘মানিকগঞ্জ জেলাকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদক নির্মূলে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘মাদকের ভয়াবহতা থেকে তরুণ ও যুবসমাজকে রক্ষা করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে জুয়া, সন্ত্রাস, কিশোর অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’

খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘একটি সুন্দর, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও মাদকমুক্ত মানিকগঞ্জ গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মানিকগঞ্জকে একটি আদর্শ ও মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।’

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ কবির জিন্নাহ, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত, পুলিশ সুপার গোলাম সারোয়ার আলম,জেলা তথ্য অফিসার নূর হোসেন এবং জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার রওশন আরা। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

আরও খবর

Sponsered content