ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনে ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন সাদমান ইসলাম। তার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ভর করে চা-বিরতিতে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৭৭ রান তুলেছে বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টের প্রথম দিনের তৃতীয় সেশনের আগে স্বাগতিকদের ভরসা হয়ে আছেন এই ওপেনার।
৭৯ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন সাদমান। ১৬৭ বলের ইনিংসে পাঁচটি চার মেরেছেন তিনি। চতুর্থ উইকেটে তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে তার অবিচ্ছিন্ন ৬৭ রানের জুটি বাংলাদেশকে স্বস্তি দিয়েছে। হৃদয় ৭৪ বলে ৩৬ রান নিয়ে অপরাজিত রয়েছেন।
সতর্ক ব্যাটিংয়ে সেশন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। সাদমান এগোচ্ছিলেন নিজের অর্ধশতকের দিকে। জেইডেন সিলসের বলে এক রান নিয়ে ৩৫তম ওভারে পঞ্চাশ পূর্ণ করেন তিনি। তবে এর কিছুক্ষণ পরই উইকেট হারান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
জোমেল ওয়ারিকানের বলে সুইপ করতে গিয়ে ব্যর্থ হন শান্ত। বল প্যাডে লাগলে আম্পায়ার প্রথমে তাকে আউট দেননি। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের আবেদনের পর পুনর্বিবেচনায় দেখা যায়, বলটি মিডল ও লেগ স্টাম্পে আঘাত করত। ফলে ১৯ রানেই ফিরতে হয় বাংলাদেশ অধিনায়ককে। ইনিংসে এটি ছিল বাংলাদেশের তৃতীয় অনাকাঙ্ক্ষিত উইকেট হারানোর ঘটনা।
এরপর ক্রিজে এসে ইতিবাচক ব্যাটিং শুরু করেন হৃদয়। শামার জোসেফের বলে সহজ একটি চার মেরে রানের খাতা খোলেন তিনি। পরে একই বোলারের বলে দারুণ একটি পুল শটে আরেকটি বাউন্ডারি আদায় করেন এই ব্যাটার। অন্য প্রান্তে সাদমানও ধৈর্য ধরে রান তুলতে থাকেন। নিজের নাগালে পাওয়া বলেই আক্রমণাত্মক হয়েছেন তিনি। জাস্টিন গ্রিভসের তুলনামূলক সহজ গতির বলেও সুযোগ বুঝে রান বের করেছেন।
এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। দিনের প্রথম আধা ঘণ্টায় রান তুলতে বেশ সতর্ক থাকতে হয় স্বাগতিকদের। জেইডেন সিলস শুরু থেকেই তানজিদ হাসানকে চাপে রাখেন। উইকেটের চারপাশ থেকে বল করে অফ স্টাম্পের বাইরের দিকে খেলতে বাধ্য করেন তাকে। শেষ পর্যন্ত সপ্তম ওভারে বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে জাস্টিন গ্রিভসের হাতে ক্যাচ দেন তানজিদ। ৭ রান করে ফেরেন তিনি।
তানজিদ বিদায় নেওয়ার পর ইনিংসের হাল ধরেন সাদমান। শুরুতে বোলারদের চাপ সামলে ধীরে ধীরে বাউন্ডারি আদায় করতে থাকেন। শরীরের কাছাকাছি পাওয়া বলগুলো ভালোভাবে কাজে লাগানোর পর স্কয়ার কাট ও কভার ড্রাইভে নিজের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের পরিচয় দেন তিনি। চা-বিরতিতে যাওয়ার আগে তার নামের পাশে জমা হয়েছে পাঁচটি চার।
সাদমানের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৫৯ রান যোগ করার পর মুমিনুল হকও ফিরে যান ওয়ারিকানের বলে। ওভারের দ্বিতীয় বলটি সামনের পায়ে এসে খেলতে গিয়ে সরাসরি মিড-অফে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। তার ব্যাট থেকে আসে ২৮ রান।
দিনের প্রথম দুই উইকেট হারানোর পরও সাদমান ও হৃদয়ের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে বাংলাদেশ। চা-বিরতির পর এই জুটি কতটা লম্বা হয়, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে প্রথম দিনের বাকি সময়ের চিত্র।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।