সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এবং দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড অ্যান্ড গ্রুপ’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান সিনহার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।
আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মরহুমের এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র পেশ ইমাম আবু রায়হান।
মরহুমের জানাজায় দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন (বীর বিক্রম), ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্যরা।
জানাজা শেষে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মরহুমের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এরপর একে একে জাতীয় সংসদের স্পিকার, স্থানীয় সরকার মন্ত্রীসহ উপস্থিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এর আগে গত শুক্রবার (১৫ মে) রাতে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন মিজানুর রহমান সিনহা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তার এই প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রাজনীতিতে মিজানুর রহমান সিনহার দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার ছিল। তিনি মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গিবাড়ী) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯৬ সালের সপ্তম এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। দুটি নির্বাচনেই তিনি যথাক্রমে ৫৮ হাজার ৪৫৫ ভোট এবং ৮৩ হাজার ৬২৩ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী নূরুল ইসলাম খান বাদল ও সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলিকে পরাজিত করেছিলেন।
সংসদ সদস্য হিসেবে সফলতার পর তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন। এ ছাড়া তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন এবং সর্বশেষ ঘোষিত মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।