
সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুরমা ও কুশিয়ারাসহ প্রধান নদীগুলোর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত দুই দিনে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ৩৬ ঘণ্টায় সিলেটে ১১১ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৫৮ দশমিক ২ মিলিমিটার।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। যদিও বর্তমানে সব নদীর পানি বিপদসীমার নিচে রয়েছে, তবে অব্যাহত বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ধনু-বাউলাই ও ভুগাই-কংস নদীর পানিও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার কিছু নিম্নাঞ্চলে সতর্কতা প্রয়োজন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আগামী রোববার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ইতোমধ্যে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে এবং আগামী ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে তা সারা দেশে বিস্তৃত হতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক স্থানে, রংপুর, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের দু-এক স্থানে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
অবিরাম বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে সিলেট অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।