সিলেট-চারখাই-শেওলা স্থলবন্দর চার লেন মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৬০০ কোটি টাকা কমেছে। সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গত ২০ মে প্রকল্পটির পূর্তকাজে ২ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দিয়েছে।
এর আগে প্রকল্পটির অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা। মন্ত্রিসভা কমিটি ২০ শতাংশ কম মূল্যে (লেস) দর অনুমোদন করায় ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
সিলেট-চারখাই-শেওলা স্থলবন্দর পর্যন্ত ৪২ দশমিক ৯৮৫ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন করে। প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর চিন্তাভাবনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের পর তিনটি লটে প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হবে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর এ কাজ বাস্তবায়ন করবে। আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে তিনটি লটের জন্য মোট ৪৭টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৯টি কারিগরি মূল্যায়নে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। পরে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির (টিইসি) সুপারিশের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন দরদাতাদের নির্বাচন করা হয়।
প্রথম লটের কাজ পেয়েছে মনিকো লিমিটেড (বাংলাদেশ) ও চায়না রেলওয়ে নম্বর ফোর ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগ। এ লটের চুক্তিমূল্য ১ হাজার ৯৯ কোটি ৫১ লাখ ৮৪ হাজার ৪২৬ টাকা।
দ্বিতীয় লটের কাজ পেয়েছে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি), যার মূল্য ৮১৬ কোটি ৫৫ লাখ ৫১ হাজার ৮৩০ টাকা।
তৃতীয় লটের কাজ বাস্তবায়ন করবে এনডিই (বাংলাদেশ) ও আরবিসিজির (চীন) যৌথ উদ্যোগ। এ লটের চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৮৯ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা।
প্রকল্পের আওতায় ২৪৭ দশমিক ১৩ একর ভূমি অধিগ্রহণ, ৪২ দশমিক ৯৮৫ কিলোমিটার পেভমেন্ট নির্মাণ, ৩১টি কালভার্ট, তিনটি সেতু, তিনটি ফ্লাইওভার, ছয়টি ওভারপাস, পাঁচটি আন্ডারপাস, চারটি ফুটওভারব্রিজ, সাতটি পথচারী পারাপার সুবিধা এবং একটি টোল প্লাজা নির্মাণ করা হবে। এছাড়া প্রায় ৪৩ কিলোমিটার মহাসড়কের উভয় পাশে ধীরগতির যানবাহনের জন্য দুটি সার্ভিস লেন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
গোলাপগঞ্জ পৌরশহরে ৬০০ মিটার দীর্ঘ একটি ফ্লাইওভার, চারখাই ও হেতিমগঞ্জ বাজারে দুটি ৩০০ মিটার ফ্লাইওভার এবং রানাপিং ও রামধা বাজারে দুটি ছোট ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে কুশিয়ারা নদীর ওপর বিদ্যমান শেওলা সেতুর পাশে নতুন চার লেনবিশিষ্ট সেতু নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক উৎপল সামন্ত বলেন, “প্রকল্পের মেয়াদ আগামী বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু গত দুই বছরে নানা কারণে কাজ শুরু না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। তাই মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।”
প্রকল্প ব্যবস্থাপক জাহিদ হাসান বলেন, “সিজিসির অনুমোদন পাওয়া গেছে। এখন মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং ঠিকাদারদের ওয়ার্ক অর্ডার প্রদানসহ কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হওয়ার ওপর প্রকল্প বাস্তবায়ন অনেকাংশে নির্ভর করছে।”
তিনি জানান, ব্যয় কমলেও প্রকল্পের মূল নকশায় বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে গোলাপগঞ্জের পর মহাসড়কের দুই পাশের সার্ভিস লেন নির্মাণের পরিকল্পনা বাদ দেওয়া হয়েছে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম বলেন, “সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহণে কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকায় এ প্রকল্পের কাজ কিছুটা পিছিয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক সমন্বয় সভা হয়েছে। আশা করছি আগামী আগস্টের আগেই ভূমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।”
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার, দক্ষিণ সুরমা, গোলাপগঞ্জ, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ এবং মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া উপজেলার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে শেওলা স্থলবন্দরের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ ও গতিশীল হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।