ভারত থেকে বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে পঞ্চগড় সীমান্তে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে নিয়মিত মাইকিং করে স্থানীয় জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা বিওপিকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বুধবার রাত থেকে ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সব কোম্পানি ও বিওপি এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং পুশইন প্রতিরোধে বিশেষ টহল জোরদার করা হয়েছে। এসব টহলে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ জনগণ অংশ নিচ্ছেন।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত টহলের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় হ্যান্ডমাইক, বাঁশি, টর্চলাইট, সার্চলাইট এবং নাইট ভিশন গগলসসহ আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের গতিবিধির ওপর গোয়েন্দা নজরদারিও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে পুশইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের অপরাধ দমনে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে বিজিবির দাবি অনুযায়ী, শুক্রবার ভোরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়।
জানা গেছে, সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫৮-এর ৫ নম্বর সাব-পিলার এলাকা দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ৯৩ ব্যাটালিয়নের টিয়াপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পার করে পাঠানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে বড়বাড়ি বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যদের বাধার মুখে ওই ব্যক্তিরা জিরো লাইনে অবস্থান নেয়। বিজিবি টহল দল বাধা দিলে তারা ভারতীয় অংশের প্রায় ২০ গজের মধ্যে অবস্থান করে। শুক্রবার ভোর থেকে শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় ৩৮ ঘণ্টা ধরে তারা জিরো লাইন এলাকায় অবস্থান করছিল বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর থেকে বিজিবির সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।