জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন উপলক্ষে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে বিএনপির দুপক্ষের পৃথক শোভাযাত্রা বের করাকে কেন্দ্র করে থানার সামনে দুপক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আহতরা হলেন উপজেলার উত্তর কামলাবাজ গ্রামের জুবায়ের আহমদ (২৯), দক্ষিণ কামলাবাজ গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়া (৩০), লক্ষীপুর গ্রামের কয়েল মিয়া (৩৮), উজান লালপুর গ্রামের শোয়াব আলী (৬১), ছেলাইয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (৩০), সেলিমগঞ্জ গ্রামের সানোয়ার হোসেন (৪৫), গজারিয়া গ্রামের সাজেদা আক্তার (২৪), কামলাবাজ গ্রামের ফারুক আহমদ (৩৫), দক্ষিণ কামলাবাজ গ্রামের দ্বীন ইসলাম স্বপন (২৯), লক্ষীপুর গ্রামের আশরাফ উদ্দিন (৪৯), সাচনাবাজার গ্রামের আব্দুল মোশাব্বির (৩০), লক্ষীপুর গ্রামের মো. সামাউল (৪০), একই গ্রামের কামাল হোসেন (৭৫) ও ইনছানপুর গ্রামের মিজানুর রহমান (৪২)। অন্যদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ শনিবার দুপুরে বিএনপির বিবাদমান দুপক্ষের নেতাকর্মীরা থানার সামনে মুখোমুখি অবস্থান নিলে প্রথমে নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, র্দীঘদিন ধরে জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও বিভক্তি চলছিল। বিএনপির এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুর রহমান ও উপজেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান। অন্য পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির দুই যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মালেক ও আজিজুর রহমান। গ্রুপিং ও দ্বন্দ্বের জের ধরে দুপক্ষের নেতাকর্মীরা আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে উপজেলা সদরে পৃথক শোভাযাত্রা বের করে। উভয়পক্ষের শোভাযাত্রা থানার সামনে আসলে নেতাকর্মীরা সংর্ঘষে লিপ্ত হয়। এতে দুপক্ষের ২০ জন আহত হয়। পরে জামালঞ্জ থানার পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
দুপক্ষের নেতাকর্মীরা উপজেলা সদরে অবস্থান করায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষের জন্য একে অপরকে দায়ী করছেন।
জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. ফয়জুর রহমান বলেন, ‘আজ দুপুরে স্থানীয় বিএনপির ১৪ জন নেতাকর্মী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ইট-পাটকেলের আঘাত রয়েছে।’
জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী বলেন, ‘আজ দুপুরে বিএনপির দুই গ্রুপ পৃথক শোভাযাত্রা বের করেছিলেন। উভয়পক্ষের শোভাযাত্রা থানার সামনের রাস্তা অতিক্রম করার সময় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় ও হাতাহাতি ও মারমারির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে।’
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।