
সুন্দরবনের ওপর স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নির্ভরশীলতা কমিয়ে টেকসই ও বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে খুলনার কয়রায় কমিউনিটি ভিত্তিক মৌচাষিদের অংশগ্রহণে মধু মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) বিকেল ৩টায় উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের সুতি বাজারে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘প্রত্যাশী’-এর উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়। স্থানীয় মৌচাষিদের উৎপাদিত মধুর প্রচার, বাজার সম্প্রসারণ এবং মৌচাষে আগ্রহ বৃদ্ধিই ছিল আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
মেলায় বিভিন্ন স্টলে মৌচাষিদের উৎপাদিত খাঁটি মধু, মৌচাষের সরঞ্জাম এবং মধুভিত্তিক বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করা হয়। দর্শনার্থীরা স্টল ঘুরে মধুর গুণাগুণ, উৎপাদন প্রক্রিয়া ও আধুনিক মৌচাষ পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।
প্রত্যাশীর প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. সোহেল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং কমিউনিটি মোবিলাইজার আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা ও রেঞ্জার মো. নাসির উদ্দীন, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. ইস্তিয়াক আহমেদ, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল গফফার, কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াছাদ আলী, সাংবাদিক ফরহাদ হোসেন, ইউপি সদস্য আবু সাইদ মোল্যা, মৌচাষি গ্রুপ ফ্যাসিলিটেটর মোল্যা মনিরুজ্জামান, মিজানুর রহমান লিটন, প্রত্যাশীর প্রজেক্ট অফিসার কল্যাণ বসাক, কমিউনিটি মোবিলাইজার রেশমা খাতুনসহ স্থানীয় মৌচাষিরা।
স্থানীয় মৌচাষি মূর্শিদা খাতুন বলেন, “আমাদের এলাকায় আগে বাক্স পদ্ধতিতে মধু চাষ হতো না। প্রত্যাশীর সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ নিয়ে আমরা এ পদ্ধতিতে মধু উৎপাদন শুরু করেছি এবং ইতোমধ্যে সফলতা পেয়েছি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে মৌচাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মৌচাষ একটি পরিবেশবান্ধব, লাভজনক ও সম্ভাবনাময় জীবিকা। উপকূলীয় অঞ্চলে কমিউনিটি ভিত্তিক মৌচাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে এটি সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।