চলমান বিশ্বকাপে পেনাল্টি নিয়ে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে দুটি ঘটনা। ভিডিও সহায়তায় রেফারির সিদ্ধান্ত বদলের পর সমর্থক, বিশ্লেষক ও সাবেক ফুটবলারদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
প্রথমে ইংল্যান্ড ও কঙ্গোর ম্যাচে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষের বক্সে পড়ে গিয়ে পেনাল্টির আবেদন করেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তবে রেফারি সেই আবেদন নাকচ করে দেন। অনেক দর্শকের দাবি, কেইন ইচ্ছাকৃতভাবে পড়ে গিয়েছিলেন।
যদিও সেই ঘটনাটি ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলেনি, কিন্তু পরের ম্যাচে সেনেগাল ও বেলজিয়ামের লড়াইয়ে পেনাল্টির সিদ্ধান্তই বদলে দেয় পুরো ম্যাচের চিত্র।
ম্যাচের ৮৬ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল সেনেগাল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বেলজিয়াম। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষদিকে, ১২৫তম মিনিটে বিতর্কিত এক পেনাল্টি থেকে আসে তাদের জয়সূচক গোল।
ঘটনাটি ঘটে যখন বেলজিয়ামের ইউরি টিলেমানসকে চ্যালেঞ্জ করেন সেনেগালের লামিন কামারা। প্রথমে খেলা চললেও পরে ভিডিও সহায়তায় দৃশ্য পর্যালোচনা করে রেফারি সাইদ মার্তিনেস বেলজিয়ামের পক্ষে পেনাল্টির বাঁশি বাজান।
এই সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হয় সেনেগালকে। ম্যাচ শেষে সেই সিদ্ধান্ত নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা শুরু হয়।
সম্প্রচারের সময় কানাডার ধারাভাষ্যকার ক্রেইগ ফরেস্ট বলেন, ‘আমার মনে হয়, সেনেগালের প্রতি এটি অত্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত। শুধু এই ম্যাচেই নয়, আফ্রিকার শীর্ষ প্রতিযোগিতাতেও তারা এর আগে এমন কয়েকটি বড় সিদ্ধান্তের শিকার হয়েছে।’
সুইডেনের সাবেক তারকা জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ আরও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, এটি কোনোভাবেই পেনাল্টি ছিল না। সেনেগালের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। সংস্পর্শ ছিল খুবই সামান্য। বেলজিয়ামের খেলোয়াড় সেটিকে বাড়িয়ে দেখিয়েছে, আর রেফারি পুরোপুরি সেটিই বিশ্বাস করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আধুনিক ফুটবলের বড় সমস্যা হলো, আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা এখন জানে—পেনাল্টি এলাকার ভেতরে সামান্য স্পর্শ পেলেই মাটিতে পড়ে যেতে হবে, এরপর ভিডিও প্রযুক্তির সহায়তায় সিদ্ধান্ত পাওয়ার অপেক্ষা করতে হবে।’
জ্লাতানের মতে, ‘পেনাল্টির সিদ্ধান্ত হতে হবে একেবারে পরিষ্কার ও সন্দেহাতীত। এমন নয় যে সিদ্ধান্তটি বুঝতে ১০ বার পুনঃপ্রচার দেখতে হবে, তিনটি ভিন্ন কোণ থেকে দৃশ্য বিশ্লেষণ করতে হবে এবং পাঁচ মিনিট ধরে বিতর্ক চলবে। এত বড় নকআউট ম্যাচের ভাগ্য এমন একটি নরম সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হওয়া সত্যিই কষ্টের।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি যদি সেনেগালের জায়গায় থাকতাম, তাহলে অবশ্যই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলতাম। এটি যেন বারবার ঘটছে। আগে আফ্রিকার শীর্ষ প্রতিযোগিতার ফাইনালে, আর এখন বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে আবারও শেষ মুহূর্তের একটি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত তাদের বিপক্ষে গেল।’
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।