সৌদি আরব ওমানের মাধ্যমে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় তেলের দাম এখনও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে।
বৃহস্পতিবারগ্রিনিচ মান সময় ৩টা ৪৭ মিনিটে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ভবিষ্যৎ চুক্তির দাম ১৯ সেন্ট বা ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৬৪ ডলারে দাঁড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৩৩ সেন্ট বা ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১০২ দশমিক ১০ ডলারে নেমে আসে। বুধবার উভয় ধরনের তেলের দাম প্রায় ৩ ডলার করে কমেছিল। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
নিসান সিকিউরিটিজ ইনভেস্টমেন্টের প্রধান কৌশলবিদ হিরোয়ুকি কিকুকাওয়া বলেন, ওমানের মাধ্যমে সৌদি আরব তেলের চালান পাঠাবে এমন খবরের পর সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ সম্মেলনের আগে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে অগ্রগতির প্রত্যাশাও তেলের দাম বাড়ার ক্ষেত্রে সীমা তৈরি করছে বলে জানান তিনি।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সৌদি আরব ওমানের সোহার বন্দরের কাছে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে এশিয়ার শোধনাগারগুলোতে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল পাঠাচ্ছে। এর ফলে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে হামলার কারণে বৈশ্বিক সরবরাহে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব কিছুটা কমতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই বিকল্প সরবরাহ সৌদি আরবের লোহিত সাগরীয় বন্দর থেকে রপ্তানি কমে যাওয়ার পুরোটা পূরণ করতে পারবে না। বিশ্লেষকেরা এক নোটে বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের প্রবাহ বাড়লেও সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে ড্রোন হামলার পর রপ্তানি কমে যাওয়ার ক্ষতি এটি আংশিকভাবেই সামাল দিতে পারছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে তেলের দাম প্রায় চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। তখন জাহাজ চলাচল খাতের সূত্রগুলো জানিয়েছিল, সৌদি আরবের লোহিত সাগরীয় প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ইয়ানবু থেকে অপরিশোধিত তেল পাঠানো বন্ধ রয়েছে এবং ইউরোপের কয়েকজন ক্রেতার কাছে নির্ধারিত কিছু চালান বাতিল করেছে রিয়াদ। পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে হামলার পরই ইয়ানবু বন্দরের সরবরাহ বন্ধ হয়।
ইরান ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ শুরু করলে ইয়ানবু সৌদি আরবের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র হয়ে ওঠে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
গত সপ্তাহের হামলায় পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের দুটি পাম্পিং স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো কবে মেরামত করা সম্ভব হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয় বলে তেল ও নিরাপত্তা খাতের তিনটি সূত্রের মূল্যায়নে জানা গেছে।
তেলের দাম বৃহস্পতিবার কিছুটা কমলেও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে। ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধারা বুধবার জানিয়েছে, সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান ইয়েমেনে ব্যাপক হামলা চালানোর পর তারা সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক ডিবিএস ব্যাংক তাদের মূল পূর্বাভাসে জানিয়েছে, চতুর্থ প্রান্তিকে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের তীব্রতা কমতে পারে এবং ব্রেন্ট তেলের দাম ৮৫ থেকে ৯৫ ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল হতে পারে।
তবে ডিবিএস ব্যাংকের জ্বালানি গবেষণাপ্রধান সুব্রো সরকার বলেন, হরমুজ ও লোহিত সাগরে হামলা ও সংঘাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তেলের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের কাছাকাছি উঠতে পারে এবং পরে আবার প্রায় ১০০ ডলারে নামতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।