
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ডাকবাংলা পুকুর ভরাট করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে একটি ভূমিখেকো চক্রের বিরুদ্ধে। পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, মহামান্য হাইকোর্টের জারিকৃত রুল ও স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) আদেশ অমান্য করে সেখানে নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে।
সোমবার (২৫ মে ২০২৬) পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট, সিলেটের একটি প্রতিনিধি দল গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণে অবস্থিত বিতর্কিত ডাকবাংলা পুকুর পরিদর্শন করে।
জানা গেছে, পুকুর ভরাট করে মার্কেট নির্মাণের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে রিট দায়ের করেন হাইকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খায়রুল আলম। ওই রিটের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গত বুধবার (২০ মে) সংশ্লিষ্ট ভূমির ওপর তিন মাসের জন্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার দত্তরাইল মৌজায় অবস্থিত সরকারি পুকুর ভরাট করে মার্কেট নির্মাণের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা পরিবেশ ও জনস্বার্থের পরিপন্থী। আদালত রুলে জানতে চান, কেন পুকুরের ওপর মার্কেট নির্মাণকে বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, কেন নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং কেন পুকুরটিকে পূর্বের অবস্থায় পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া হবে না।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পুকুরের শ্রেণি পরিবর্তন, ভরাট কার্যক্রম ও নির্মাণকাজ সংক্রান্ত অনুমতির বিস্তারিত তথ্য ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রিটের বিষয়টি জানার পর পরিবেশবাদীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট, সিলেটের চেয়ারম্যান ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী (বাহার)-এর নেতৃত্বে পরিদর্শন দলে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টি ও ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’ কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল করিম কিম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গোলাম সোবহান চৌধুরী (দীপন), ট্রাস্টি রেজাউল কিবরিয়া, ঐতিহ্য গবেষক আসিফ আজহার, পরিবেশকর্মী রোমেনা রোজী, তাপস পুরকায়স্থ ও নাহিদ পারভেজ বাবুসহ অনেকে।
পরিদর্শন শেষে আব্দুল করিম কিম বলেন,"২০২০-২০২১ সালেও জেলা পরিষদ সেখানে মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে স্থানীয় জনগণ ও পরিবেশবাদীদের প্রতিবাদের মুখে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে দ্রুততার সঙ্গে আবারও মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে জেলা পরিষদের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।"
ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বলেন, "প্রাকৃতিক জলাধার ধ্বংস করে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ জনস্বার্থের পরিপন্থী। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পুকুর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
রিটের পিটিশনার আইনজীবী খায়রুল আলম বলেন, "প্রখ্যাত জমিদার কালী প্রসাদ দত্ত চৌধুরী স্থানীয় জনগণের কল্যাণে এই ভূমি ও পুকুর দান করেছিলেন। পরবর্তীতে সেখানে সরকার চিকিৎসাকেন্দ্র, ডাকবাংলো ও সরকারি কোয়ার্টার নির্মাণ করে। কিন্তু বর্তমানে ব্যক্তিস্বার্থে সেখানে মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থেই আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি।"
পরিদর্শন শেষে পরিবেশবাদীরা ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে স্থানীয় বিশিষ্টজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রহিম, শাহ জামাল, কবির আহমদ, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মিছবাহ আহমদ, সাংবাদিক মাহফুজ আহমদ চৌধুরী, আজিজ খান, জাবেদ মাহবুবসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।