
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনায় উদ্ধার হওয়া কয়েকশ কোটি টাকার চেক এখন তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে সামনে এসেছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও মোটরসাইকেলের পাশাপাশি এসব চেকে উল্লেখ থাকা বিপুল অঙ্কের টাকা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম ঘিরে তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
দৈনিক মতপ্রকাশের হাতে আসা উদ্ধারকৃত চেকগুলো পর্যালোচনায় দেখা যায়, চিশতী টেক্স (Chisty Tex), এমডি মোস্তাফিজুর রহমান (MD Mustafiur Rahman), বশির (Bashir), এমআর ইন্টারন্যাশনাল (MR International) এবং এমএএম ইমপেক্স (MAM Impex) নামধারী একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের চেক উদ্ধার করা হয়েছে। এসব চেকের কয়েকটিতে এক কোটি ও দুই কোটি টাকার ইস্যু দেখা গেলেও, MAM Impex–এর নামে থাকা একটি চেকে উল্লেখ রয়েছে ৫ কোটি টাকা।
[gallery size="full" columns="2" ids="23451,23452,23453,23454,23455"]
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ ধরনের উচ্চমূল্যের চেক উদ্ধার হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রশ্ন উঠেছে—এই অর্থের উৎস কী, কারা এসব অর্থের সুবিধাভোগী এবং এই অর্থ কি কেবল একটি হত্যাকাণ্ডের জন্য ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল, নাকি এর পেছনে ছিল আরও বিস্তৃত কোনো পরিকল্পনা।
গোয়েন্দা তদন্তে উঠে এসেছে, বিদেশ থেকে দেশে ফিরে শ্যুটার ফয়সাল পরিকল্পিতভাবে একটি ‘শ্যুটার টিম’ গড়ে তোলে। মাত্র সাত দিনের মধ্যে টার্গেটের সঙ্গে সখ্যতা তৈরি করে হত্যার মিশন বাস্তবায়ন করা হয়। হত্যার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই দেশ ছাড়ে মূল অভিযুক্ত ফয়সাল এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী গায়েব করা হয় গুরুত্বপূর্ণ আলামত।
ওসমান হাদি ও শ্যুটার ফয়সালের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার সূত্রপাত ঘটে ইনকিলাব মঞ্চের কালচারাল সেন্টারে। দৈনিক মতপ্রকাশের হাতে আসা শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়—হত্যার আগে দীর্ঘ সময় ধরে হাদির গতিবিধি অনুসরণ করে শ্যুটার দল।
হত্যার পর পালানোর সময় ফয়সালের বোনের বাসার নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি ও ম্যাগজিনের পাশাপাশি এই বিপুল অঙ্কের চেকগুলো। পরে গ্রেপ্তার হওয়া স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদে অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারের তথ্যও পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ডিএমপির মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, হত্যার আগে ও পরে প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন। উদ্ধারকৃত সব আলামত, বিশেষ করে চেক ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে। এই অর্থের সঙ্গে কারা জড়িত এবং এর পেছনে কোনো সংগঠিত অপরাধ নেটওয়ার্ক আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রধান দুই আসামি এখনও পলাতক থাকলেও তদন্তে পুরো হত্যাকাণ্ডের নকশা উন্মোচিত হয়েছে। তবে তদন্তের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই—
উদ্ধার হওয়া এই কয়েকশ কোটি টাকার চেক কি শুধু শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার পারিশ্রমিক, নাকি এর আড়ালে ছিল আরও বড় কোনো ‘কিলিং মিশন’ ও অর্থনৈতিক জাল?
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।