হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় দেশের ১৮ জেলার ৩০ নির্বাচিত উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের দেওয়া হচ্ছে এই টিকা।
আজ রোববার সকাল ৯টায় ঢাকার নবাবগঞ্জে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে ঝুঁঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে এই কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য আগামী ২১ মের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা।
তিনি বলেন, হামের টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ ও কার্যকর। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। গুজব প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থেকে এই কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আগে টিকা নেওয়া থাকুক বা না থাকুক, সব শিশুকেই পুনরায় টিকা দেওয়া হবে জানিয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশই ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এ কারণে প্রথম পর্যায়ে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে।
টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি আক্রান্ত বা জ্বরগ্রস্ত শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে শুধু টিকাই দেওয়া হবে, অতিরিক্ত কোনো ওষুধ দেওয়া হবে না। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে টিকা দেওয়া হবে। আগের টিকাদান কেন্দ্রগুলো ছাড়াও স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত স্থান, স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রাথমিকভাবে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কার্যক্রম শুরু হলেও, ধীরে ধীরে সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানিয়েছেন, যারা ইতোমধ্যে হাম বা জ্বরে আক্রান্ত রয়েছে, তাদের আপাতত এই টিকা দেওয়া হবে না। পরে যেসব জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে বা বেড়েছে, সেসব এলাকায় পর্যায়ক্রমে এই টিকাদান কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। এ সময় সব অভিভাবককে শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করতে এবং কর্মসূচি সফল করতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
যে ৩০ উপজেলায় হামের টিকা দেওয়া হচ্ছে-
বরগুনা (বরগুনা পৌরসভা ও সদর), পাবনা (পাবনা পৌরসভা ও সদর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, বেড়া), চাঁদপুর (চাঁদপুর পৌরসভা ও সদর, হাইমচর), কক্সবাজার (মহেশখালী, রামু), গাজীপুর (গাজীপুর সদর), চাঁপাইনবাবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, শিবগঞ্জ, ভোলাহাট), নেত্রকোনা (আটপাড়া), ময়মনসিংহ (ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল, তারাকান্দা, শ্রীনগর), রাজশাহী (গোদাগাড়ী), বরিশাল (মেহেন্দীগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ), নওগাঁ (পোরশা), যশোর (যশোর পৌরসভা ও সদর), নাটোর (নাটোর সদর), মুন্সীগঞ্জ (মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, লৌহজং), মাদারীপুর (মাদারীপুর পৌরসভা ও সদর), ঢাকা (নবাবগঞ্জ), ঝালকাঠি (নলছিটি), শরীয়তপুর (জাজিরা)।
দেশের মোট ৩০টি হটস্পট উপজেলা বা পৌরসভা চিহ্নিত করা হয়েছে। সর্বোচ্চ আক্রান্ত এলাকার মধ্যে বরগুনা সদর ও পৌরসভা রয়েছে। নিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে রয়েছে মাদারীপুর, ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ঝালকাঠি, শরীয়তপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলা।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।