সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনেই বাংলাদেশের চারটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের প্রাপ্তি তাওহিদ হৃদয়ের অভিষেক টেস্ট সেঞ্চুরি। তবে মধ্যাহ্নবিরতিতে ৭ উইকেটে ২০৫ রান নিয়ে বেশ বিপাকেই রয়েছে স্বাগতিকেরা। জোমেল ওয়ারিকান তিনটি এবং রস্টন চেজ একটি উইকেট নিয়েছেন।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সাদমান ইসলামের ব্যাটিংয়ে নামার সম্ভাবনাও কম। ফলে কার্যত আট উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। এখনো প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে ১৫০ রানের বেশি পিছিয়ে রয়েছে তারা।
দ্বিতীয় দিন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৫৬ রানের জবাবে বাংলাদেশের ব্যাটিংকে চাপে ফেলেছিল পেসাররা। তবে তৃতীয় দিনের সকালে বাংলাদেশকে বিপর্যস্ত করেছে স্পিনাররা। বরাবরের মতোই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন ওয়ারিকান। চলতি সিরিজে তার উইকেটসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২-তে। চেজের শিকারও এখন ছয় উইকেট। তবে হৃদয়ের ব্যাটে ভর করে প্রথম সেশনে ১১৭ রান যোগ করতে পেরেছে বাংলাদেশ।
দিনের অষ্টম ওভারে মুশফিকুর রহিমকে ফিরিয়ে দেন ওয়ারিকান। নিচু হয়ে ঘুরে যাওয়া বলে কভার অঞ্চলে চেজের হাতে ক্যাচ তুলে দেন মুশফিক। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্যাচটি তালুবন্দী করেন চেজ। ৩৪ রান করে ফেরেন মুশফিক। মাঠ ছাড়ার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক চেজের কাছ থেকে সিদ্ধান্তের নিশ্চয়তা নেন তিনি।
পরের ওভারেই প্রায় একইভাবে লিটন দাসকে ফেরান ওয়ারিকান। কভার অঞ্চলে বল তুলে দিলে সহজেই ক্যাচ নেন ব্র্যান্ডন কিং।
এরপর কয়েকটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মেহেদী। চেজের বলে ল্যাপ সুইপ খেলতে গেলে স্লিপ থেকে দৌড়ে এসে লেগ সাইডে দুর্দান্ত ঝাঁপিয়ে ক্যাচ নেন জাস্টিন গ্রিভস।
এরপর হাসান মাহমুদকে এক রানে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানান ওয়ারিকান। তখন অন্য প্রান্তে হৃদয়ের একা হয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়।
তবে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের পথ বেছে নেন হৃদয়। পরের ওভারে চেজকে একটি ছক্কা ও একটি চার মারেন তিনি। পরের ওভারেও আরেকটি বাউন্ডারি হাঁকান। জেডেন সিলসকে স্কয়ার লেগ দিয়ে ফ্লিক করে ৯৯ রানে পৌঁছান হৃদয়। এরপর চেজের বলে এক রান নিয়ে পূর্ণ করেন নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি।
দ্বিতীয় দিন আমির জাঙ্গোর ১৩৩ রানের ইনিংসে ভর করে বড় সংগ্রহ গড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অভিষিক্ত কেভিন উইকহাম ও জাস্টিন গ্রিভসও পেয়েছিলেন অর্ধশতকের দেখা। ফলে বাংলাদেশের বিপক্ষে বোলিং করার মতো যথেষ্ট পুঁজি পেয়ে যায় সফরকারীরা।
সাদমান খেলতে না পারায় বাংলাদেশের ইনিংস শুরু করতে হয় নাঈম হাসানকে। তবে মাত্র পাঁচ বল টিকতে পেরেছিলেন এই অস্থায়ী উদ্বোধনী ব্যাটার। জেডেন সিলসের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
এরপর জাস্টিন গ্রিভসের বলে ব্যাটের নিচের অংশে লেগে বল কভার অঞ্চলে তুলে দেন তানজিদ হাসান। দারুণ ক্যাচ নিয়ে তাকে ফেরান উইকহাম। আর উইকেটের চারপাশ থেকে করা দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে নাজমুল হোসেন শান্তর অফ স্টাম্প উপড়ে ফেলেন শামার জোসেফ। এভাবেই শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।