দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারে এখনও নতুন কিছুর খোঁজে লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনাকে ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয় এনে দেওয়া এই মহাতারকা জানিয়েছেন, ২০২৬ সালে উত্তর আমেরিকায় হতে যাওয়া পরবর্তী বিশ্বকাপে খেলতে চান তিনি। তবে বয়স ও শারীরিক ফিটনেসই নির্ধারণ করবে তার ভূমিকা।
সম্প্রতি মেজর লিগ সকারের দল ইন্টার মায়ামির সঙ্গে ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করেছেন মেসি। আগামী জুনে ৩৯ বছরে পা দিলেও এখনই অবসরের কথা ভাবছেন না এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী বলেন, “বিশ্বকাপে খেলা এক অসাধারণ বিষয় এবং আমি অবশ্যই সেখানে থাকতে চাই। ভালো থাকতে চাই এবং যদি খেলি, তাহলে দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চাই। আগামী মৌসুমে ইন্টার মায়ামির সঙ্গে প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি শুরু হলে প্রতিদিন নিজের ফিটনেস ও অবস্থা মূল্যায়ন করব। তখনই সিদ্ধান্ত নেব আমি শতভাগ দিতে পারি কি না।”
মেসি আরও বলেন, “আমি সত্যিই উচ্ছ্বসিত, কারণ এটা তো বিশ্বকাপ! আমরা আগেরবার শিরোপা জিতেছি, আর এবার মাঠে নেমে সেটি রক্ষা করার সুযোগ পাওয়া দারুণ বিষয়। জাতীয় দলের হয়ে খেলাটা সবসময়ই স্বপ্নের মতো।”
২০০৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে বার্সেলোনার হয়ে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক হয় মেসির। এরপর পিএসজিতে খেলার পর ২০২৩ সালে যোগ দেন ইন্টার মায়ামিতে। তার আগমনে যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের জনপ্রিয়তা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে—বিশেষ করে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী বিশ্বকাপের আগে এটি বড় প্রভাব ফেলেছে।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য ক্লাব ও ব্যক্তিগত সাফল্য থাকলেও জাতীয় দলের হয়ে বড় কোনো শিরোপা ছিল না মেসির। অবশেষে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে ফাইনালে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে ৪–২ ব্যবধানে হারিয়ে পূরণ করেন আজীবনের স্বপ্ন।
মেসি বলেন, “ওটা ছিল আমার জীবনের স্বপ্নপূরণ। সত্যি বলতে, সেটিই ছিল একমাত্র অর্জন যা আমার বাকি ছিল পেশাদার জীবনে। ব্যক্তিগত এবং ক্লাব পর্যায়ে আমি প্রায় সবকিছুই জিতেছিলাম বার্সেলোনার হয়ে। প্রতিটি খেলোয়াড়ের মতো আমারও স্বপ্ন ছিল একদিন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া।”
এ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার হয়ে ১৯৫ ম্যাচে রেকর্ড ১১৪ গোল করেছেন মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপে খেললে এটি হবে তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ—যা ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে যোগ হবে ফুটবলের এই জাদুকরের নামের পাশে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।