কোরআন ও সুন্নাতের প্রচারে বিশ্বব্যাপী অরাজনৈতিক দ্বীনী সংগঠন দাওয়াতে ইসলামীর উদ্যোগে রাজধানীর এয়ারপোর্ট সংলগ্ন কাওলা (আশিয়ান সিটি) ইজতিমা ময়দানে আগামী ২৪ ডিসেম্বর (বুধবার) তাহাজ্জুদের নামাজের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে তিন দিনের সুন্নাতে ভরা ইজতিমা। ইজতিমা শেষ হবে ২৬ ডিসেম্বর জুমার নামাজ বাদ আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে।
দাওয়াতে ইসলামী বাংলাদেশের জিম্মাদার (মিডিয়া বিভাগ) মুফতি জহিরুল ইসলাম মুজাদ্দেদী আত্তারী জানান, এবারের ইজতিমায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মুসল্লির সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইজতিমা সফলভাবে আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
শুক্রবার কাওলা (আশিয়ান সিটি) ইজতিমা ময়দানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইজতিমা ময়দানজুড়ে বিশাল প্যান্ডেল স্থাপন করা হয়েছে। মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ চেকপোস্ট, সিসি ক্যামেরা এবং পাঁচটি ওয়াচ টাওয়ার বসানো হয়েছে। মাঠে প্রবেশের প্রতিটি পথে থাকবে বিশেষ চেকপোস্ট, যেখানে আগত মুসল্লিদের তল্লাশি শেষে প্রবেশ করানো হবে। পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে দাওয়াতে ইসলামীর কয়েক শত স্বেচ্ছাসেবক।
এছাড়াও মুসল্লিদের জন্য অজু, গোসল, প্রয়োজনীয় হাজতখানা ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সহায়তায় ইজতিমা ময়দানে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন ইজতিমা মজলিস জিম্মাদার মুহাম্মদ কামাল আত্তারী ও দাওয়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক কাদেরী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মুহাম্মদ জাকির আত্তারীসহ সংগঠনের অন্যান্য দায়িত্বশীলরা।
মুফতি জহিরুল ইসলাম মুজাদ্দেদী আত্তারী বলেন, “দাওয়াতে ইসলামী ত্বরিকতপন্থী, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আক্বিদায় বিশ্বাসী একটি অরাজনৈতিক দ্বীনী সংগঠন। ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশে নিয়মিত তিন দিনের এই ইজতিমা আয়োজন করে আসছি।”
তিনি আরও বলেন, ইজতিমায় কোরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কেয়াসের আলোকে ইমান-আক্বিদা ও আমল বিষয়ে দিন-রাত বয়ান করা হবে। নামাজ আদায়, ফরজ, সুন্নাত ও নফল ইবাদতের পদ্ধতি দলিলভিত্তিকভাবে হাতে-কলমে শেখানো হবে। ইসলাম যে শান্তির ধর্ম—এই বার্তা মানুষের মাঝে পৌঁছে দিতেই এ আয়োজন।
দেশের বরেণ্য সুন্নি ওলামায়ে কেরাম ও মুবাল্লিগগণ ইজতিমার বয়ানে অংশ নেবেন। প্রতিদিন বয়ান শেষে মিলাদ, কিয়াম ও মোনাজাতের মাধ্যমে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনা করা হবে।
দাওয়াতে ইসলামী বাংলাদেশের জিম্মাদার মুহাম্মদ কামাল আত্তারী জানান, বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে দাওয়াতে ইসলামীর ইজতিমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ইজতিমা শেষে মুসল্লিরা ১২ দিন, ৩০ দিন, ৬৩ দিন, ৯২ দিন ও ১২ মাসের মাদানী কাফেলায় অংশ নিয়ে দেশের বিভিন্ন মসজিদে সফর করে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দেবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।