টানা ভারী বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে গেছে কুমিল্লা নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা। মাত্র তিন ঘণ্টার প্রবল বৃষ্টিতেই প্রধান সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও কোমরসমান পানি জমে গেছে। বাসাবাড়িতেও ঢুকে গেছে পানি। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের পরিবার, দিনমজুর ও কর্মজীবী মানুষ।
আজ সোমবার সকাল থেকে নগরীর অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। কর্মস্থলে যেতে দীর্ঘ ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী মানুষ। এ ছাড়া জলাবদ্ধতার কারণে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ এবং কুমিল্লা সরকারি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। অনেক পরীক্ষার্থী পানি মাড়িয়ে, আবার কেউ নৌকায় করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছান। অভিভাবকরাও সন্তানদের নিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
নগরীর জিলা স্কুল সড়ক, পুলিশ লাইনস, রেসকোর্স, চর্থা, ঠাকুরপাড়া, বিসিক শিল্পনগরী, গোবিন্দপুর, মুরাদপুর এবং শহরতলীর ছায়াবিতান এলাকায় সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। বিভিন্ন বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়ায় অনেকের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে ড্রেন উপচে ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে।
কুমিল্লা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে আজ সোমবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় রেকর্ড হয়েছে ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দিনভর আরও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কুমিল্লা সিটি প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, অতি ভারী বৃষ্টির কারণে রাস্তায় পানি জমে গিয়েছে। ভোর থেকে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা পানি অপসারণে কাজ করছে। আমি নিজেও পরিদর্শনে বের হয়েছি। যেখানে যেখানে পানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সেখানেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সমস্যা স্থায়ীভাবে নিরসনের জন্য সমস্যা চিহ্নিত করে এরই মধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি।
কুমিল্লা আবহাওয়া কর্মকর্তা ছৈয়দ আরিফুর রহমান বলেন, আজ সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত কুমিল্লায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে এবং আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।