
বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তন দেখালো বেলজিয়াম। অতিরিক্ত সময়ে পাওয়া পেনাল্টি থেকে সেনেগালকে ৩-২ গোলে পরাজিত করে নাটকীয়ভাবে রাউন্ড অব সিক্সটিন নিশ্চিত করেছে দ্য রেড ডেভিলস। অধিনায়ক ইউরি টিলেমান্সের জোড়া গোলে শেষ পর্যন্ত স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে সাদিও মানের সেনেগালের। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত রাউন্ড অব ৩২ থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে তেরেঙ্গা লায়নদের।
ম্যাচের প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা সেনেগাল দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে। নিয়াখাতের লম্বা পাস বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরালো হাফ-ভলিতে থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন ইসমাইলা সার। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় সেনেগাল।
তবে ৮৬তম মিনিটে রোমেলু লুকাকু গোল করে বেলজিয়ামকে ম্যাচে ফেরার আশা দেখান। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ৮৯তম মিনিটে ইউরি টিলেমান্সের দুর্দান্ত হেডে ২-২ সমতা ফেরে। নিশ্চিত হারের মুখ থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ফিরে আসে ইউরোপের দলটি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে কোনো দল গোল করতে না পারলেও শেষ মুহূর্তে আসে ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনা। অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা মিনিটে বেলজিয়াম পেনাল্টির আবেদন করে। ডোডি লুকেবাকিওর শট ক্রসবারে লেগে ফিরে এলেও আক্রমণের সময় ইউরি টিলেমান্সকে ফাউল করা হয়েছে বলে দাবি করেন বেলজিয়ান খেলোয়াড়রা। রেফারি প্রথমে খেলা চালিয়ে যেতে বললেও পরে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) সহায়তায় রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত বদলান। রিপ্লেতে দেখা যায়, লামিনে কামারা বল স্পর্শ না করে টিলেমান্সকে ফাউল করেছিলেন। এরপরই পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।
১২৫তম মিনিটে স্পট-কিক থেকে কোনো ভুল করেননি ইউরি টিলেমান্স। তার সফল পেনাল্টিতেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রেখে বিশ্বকাপে স্মরণীয় এক প্রত্যাবর্তনের জয় তুলে নেয় তারা। শুরুতে দুই গোলের লিড নিয়ে যখন জয়ের স্বপ্ন দেখছিল সেনেগাল, তখন অতিরিক্ত সময়ে মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে তাদের সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।