
দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বর্তমানে এক আলোচিত নাম চাঁদপুরের সাত বছরের শিশু সোহান। অসাধারণ ফুটবলের স্কিল, বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ, ড্রিবলিং ও গতি—সব মিলিয়ে বয়সের তুলনায় বিস্ময়কর দক্ষতা দেখাচ্ছে সে। এই অদ্ভুত ক্ষমতার সুবাদে গত দেড় বছর ধরেই সে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। ইন্টারনেটে তার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে সৃষ্টি হয় চাঞ্চল্য এবং অনেকেই তাকে ভালোবেসে ‘চাঁদপুরের মেসি’ বলে ডাকতে শুরু করেন।
সোহানের প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ডাকা হয় এবং সেখানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় তাকে পূর্ণ বৃত্তি দেওয়ার ঘোষণা দেয়। সোহানের বাড়ি মতলব উত্তর উপজেলার সাড়ে পাঁচআনী গ্রামে। তার বাবা সোহেল প্রধানিয়া এলাকায় সাইকেল মেরামতের কাজ করেন। সোহান বর্তমানে স্থানীয় হাজী ইউসুফ আলী কিন্ডারগার্টেনে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে।
ছেলের বিকেএসপি প্রসঙ্গে সোহানের বাবা সোহেল প্রধানিয়া বলেন, তিনি একজন দরিদ্র মানুষ, তবুও ছেলের প্রতিভাকে বিকশিত করতে কোনো ত্রুটি রাখেননি। তবে বিকেএসপিতে ভর্তি করার পর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই শিশু সোহান তার বাবা-মাকে না দেখে কান্নাকাটি শুরু করে এবং বাড়ি ফিরে আসতে চায়। বয়সের স্বল্পতার কারণে সেখানে মন বসাতে না পারায় তাকে ঢাকা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সোহান মেজো।
সোহানের বাবা জানান, বিভিন্ন পর্যায় থেকে এবং প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যদের কাছ থেকে সোহান কিছুটা সহায়তা পেয়েছে। তিনি দেশবাসীর কাছে তার ছেলের জন্য দোয়া চেয়েছেন যেন সে ভবিষ্যতে দেশের ফুটবলের জন্য কিছু করতে পারে। সোহানের মা জানান, সে প্রতিদিন বিকেলে এলাকায় ফুটবল নিয়ে খেলাধুলা করে। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা তার প্রিয় দল এবং লিওনেল মেসি তার মূল অনুপ্রেরণা। রাতের বেলা জেগে নিজের ঘরে বসে নিয়মিত খেলা দেখে সোহান। ফুটবলের প্রতি গভীর ভালোবাসা আর স্বপ্ন নিয়ে বড় হতে থাকা এই শিশুটি ভবিষ্যতে একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড় হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।