
বদলি হিসেবে নেমে চমক দেখিয়েছেন গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। শেষ মুহূর্তে গোল করে ব্রাজিলকে জয় এনে দিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ম্যাচ শেষে এই জয়ের আনন্দ লুকাতে পারেননি এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। মাঠে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, গ্যালারিতে পরিবারের উপস্থিতি এবং দলের জন্য অবদান রাখতে পারার আনন্দ—সব মিলিয়ে মুহূর্তটি ছিল তার কাছে বিশেষ।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্তিনেল্লি বলেন, এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তিনি বলেন, ‘আমার হৃদয়ের আনন্দ বোঝানোর মতো শব্দ খুঁজে পাচ্ছি না। এত সমর্থককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা, আমার বাবা-মা, বন্ধুদের দেখা, এটা ভাষায় বোঝানো কঠিন।’
ম্যাচে একবার পোস্টে বল লাগলেও হতাশ হননি মার্তিনেল্লি। বরং তার বিশ্বাস ছিল, আবার সুযোগ আসবে। তিনি বলেন, ‘পোস্টে লাগার পর আমি জানতাম, আরেকটা সুযোগ পাব। সত্যি বলতে, এটা বোঝানোর মতো ভাষা আমার নেই।’
নিজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে দলের সাফল্যকেই বড় করে দেখছেন আর্সেনাল তারকা। বাঁ প্রান্তে খেলুক বা মাঝখানে, যেকোনো ভূমিকায় দলের কাজে আসাই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মার্তিনেল্লি বলেন, ‘আমি শুধু খুশি যে দলকে সাহায্য করতে পেরেছি। বাঁ দিকে খেলি বা মাঝখানে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দলকে সাহায্য করা।’
ইনজুরি টাইমে গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির মহানাটকীয় গোলে জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর যখন পুরো ব্রাজিল শিবিরে উৎসবের আমেজ, ঠিক তখনই এক বড় দুঃসংবাদ তাড়া করছে সেলেসাওদের। প্রথমার্ধ শেষে ড্রেসিংরুমে চলে যাওয়া মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম ছেড়েছেন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। ডান উরুর চোটের কারণে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার খেলা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে।
হিউস্টনের এই ম্যাচে প্রথমার্ধের পুরোটা সময় মাঠের খেলায় বেশ সক্রিয় থাকলেও খুব একটা উজ্জ্বল হতে পারেননি পাকেতা। প্রথমার্ধের একদম শেষদিকের যোগ করা সময়ে প্রতিপক্ষের অর্ধে একটি আক্রমণ তৈরি করার সময় উরুতে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। এ কারণেই দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই (৪৬ মিনিটে) কোচ কার্লো আনচেলত্তি বাধ্য হয়ে পাকেতার বদলে বিস্ময়বালক এনদ্রিককে মাঠে নামান।
চোটের গভীরতা কতটা, তা জানতে মঙ্গলবার পাকেতার বেশ কিছু মেডিকেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। তবে নিজের ইনজুরি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই মিডফিল্ডার লিখেছেন, 'যেভাবেই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত আমরা একসঙ্গেই লড়ে যাব।'
ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপের শেষ ষোলো বা দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করা ব্রাজিল এখন তাকিয়ে আছে নরওয়ে ও আইভরি কোস্টের মধ্যকার ম্যাচের দিকে। মঙ্গলবার রাতে মুখোমুখি হবে এই দুই দল। এই ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষেই আগামী রোববার রাত ২টায় কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মাঠে নামবে কার্লো আনচেলত্তির দল।
জাপানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের রুদ্ধশ্বাস জয়ে যখন শেষ ষোলো নিশ্চিত করল ব্রাজিল, তখন উল্লাসে মেতে উঠলেন দলের অন্যতম প্রধান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। হিউস্টন স্টেডিয়ামে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কয়েকটি ম্যাচ-অ্যাকশনের ছবি পোস্ট করে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা উইঙ্গার।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিনিসিয়ুস লেখেন, ‘আমরা এখনো বেঁচে আছি এবং আমাদের ক্ষুধা আরও বেড়েছে!!!! এটা শুধুই ব্রাজিলের জন্য!!!!’ তার এই পোস্ট মুহূর্তেই সেলেসাও সমর্থকদের মাঝে বিপুল উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ব্রাজিলের সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফর্মার ভিনিসিয়ুস অবশ্য এই ম্যাচে নিজে কোনো গোলের দেখা পাননি। তবে মাঠের খেলায় জাপানি ডিফেন্ডারদের প্রতিনিয়ত ব্যস্ত রেখেছিলেন তিনি। বিশেষ করে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ৫৮ মিনিটে লিড নেওয়ার সবচেয়ে সুবর্ণ সুযোগটি তৈরি করেছিলেন এই নম্বর সেভেন। জাপানের দু-দুটি ডিফেন্ডারকে চমৎকার ড্রিবলিংয়ে নাচিয়ে বক্সে ঢুকে শট নিলেও, সে যাত্রায় ব্রাজিলের পথে প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান জাপানি গোলরক্ষক জিওন সুজুকি।
টেক্সাসের হিউস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়েছিল কার্লো আনচেলত্তির দল। প্রথমার্ধের ২৯ মিনিটে কাইশু সানোর গোলে জাপান এগিয়ে গেলেও, দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ব্রাজিল। ৫৬ মিনিটে কাসেমিরোর বুলেট হেডে সমতায় ফেরার পর, ইনজুরি টাইমের (যোগ করা সময়ের) ষষ্ঠ মিনিটে গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির চমৎকার কোনাকুনি শটে জয় নিশ্চিত করে সেলেসাওরা। এই নাটকীয় জয়ের পর সব সমালোচনা উড়িয়ে এখন হেক্সা মিশনের পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুত ভিনি-মার্তিনেল্লিরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।