
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে জেগে ওঠা, এক গ্লাস পানি পান করার সামর্থ্য কিংবা প্রিয়জনের সান্নিধ্য—এসবই আল্লাহর অসীম অনুগ্রহ, যার কথা আমরা প্রায়শই ভুলে যাই। একজন মুমিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এসব নেয়ামতের জন্য সদা কৃতজ্ঞ থাকা। কৃতজ্ঞতা কেবল একটি নৈতিক গুণ নয়, এর পেছনে ইহকাল ও পরকালের গভীর তাৎপর্য ও বাস্তব কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, ‘তোমরা যদি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের নেয়ামত বাড়িয়ে দেব।’ (সুরা ইব্রাহিম, আয়াত: ৭)। মুফাসসিরদের মতে, এখানে নেয়ামত বৃদ্ধির অর্থ হলো রিজিক, বরকত, মানসিক প্রশান্তি এবং ইমান বৃদ্ধি পাওয়া। সুতরাং কৃতজ্ঞতা নেয়ামত লাভের একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
নবীজি (সা.) মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতাকে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার পরিপূরক হিসেবে দেখেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৯৫৪)। মানুষের উপকারের স্বীকৃতি দেওয়া আসলে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতারই একটি সম্প্রসারণ, যা পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি করে।
জীবনে সুখ ও দুঃখ আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা। কৃতজ্ঞতার অভ্যাস থাকলে বিপদের মুহূর্তেও মানুষ আল্লাহর অন্য নেয়ামতগুলোর কথা স্মরণ করতে পারে, যা ধৈর্য ধারণকে সহজতর করে। নবীজি (সা.) বলেছেন, মুমিনের প্রতিটি অবস্থাই কল্যাণকর। সুখের সময় সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আর কষ্টের সময় ধৈর্য ধারণ করে—উভয়ই তার জন্য কল্যাণকর। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৯৯)।
বর্তমান সময়ের মানসিক অস্থিরতার একটি বড় কারণ হলো অন্যের সঙ্গে নিজের জীবনের তুলনা করা। কৃতজ্ঞতা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়। কৃতজ্ঞ মানুষ যা নেই তা নিয়ে আফসোস না করে যা আছে তার মূল্যায়ন করতে শেখেন। নবীজি (সা.) পরামর্শ দিয়েছেন, নিজের চেয়ে সুবিধাবঞ্চিতদের দিকে তাকাতে, যেন আল্লাহর নেয়ামতকে তুচ্ছ মনে না হয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৬৩)।
কৃতজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জীবনের সব সাফল্য আসলে আল্লাহর দান। এই বোধ মানুষকে অহংকার থেকে দূরে রাখে, কারণ অহংকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এছাড়া কৃতজ্ঞ ব্যক্তি নেয়ামতের সঠিক ব্যবহারের ব্যাপারে সচেতন থাকেন, কারণ কিয়ামতের দিন জীবনের প্রতিটি বিষয়ের হিসাব দিতে হবে। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৪১৬)। কৃতজ্ঞতা একটি চর্চার বিষয়; প্রতিদিন ছোট ছোট নেয়ামত স্মরণ করা এবং অন্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে একজন মুমিন তার জীবনে প্রশান্তি ও সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।