
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে হিন্দি সিনেমার দর্শকদের কাছে অন্যতম প্রিয় চরিত্র সঞ্জয়ের মুন্না ও আরশাদ ওয়ার্সির সার্কিট। ২০০৬ সালে ‘লাগে রাহো মুন্না ভাই’ মুক্তির পর থেকেই ভক্তদের মনে একটাই প্রশ্ন ছিল—‘মুন্নাভাই ৩’ কবে মুক্তি পাবে? দীর্ঘ সময় ধরে নানা গুঞ্জন চললেও ছবিটি নিয়ে বড় কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে এবার বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মুখ খুলেছেন পরিচালক রাজকুমার হিরানি ও অভিনেতা আরশাদ ওয়ার্সি। তাদের দাবি, মুন্নাভাই সিরিজটি বন্ধ হয়ে যায়নি, বরং এরই মধ্যে সিনেমাটির তিনটি আলাদা চিত্রনাট্য লেখা হয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজকুমার হিরানি জানিয়েছেন, নতুন গল্পের কোনো অভাব তার নেই। তার মূল সমস্যা হলো গল্পের শেষ পরিণতি প্রত্যাশামতো তৈরি করা। হিরানি বলেন, তিনি চাইলে এখনই বিরতি বা ইন্টারভ্যাল পর্যন্ত পাঁচটি মুন্নাভাই সিনেমা তৈরি করে ফেলতে পারেন, কিন্তু বিরতির পরের অংশটি তার কাছে এখনো অস্পষ্ট। কেবল ব্যবসায়িক সাফল্য বা মুনাফার কথা ভেবে তিনি এই ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় কিস্তি বানাতে রাজি নন। রাজকুমার বলেন, তিনি ‘মুন্নাভাই ৩’ বানাতে চান, কিন্তু নতুন ছবিটিকে অবশ্যই আগের দুই সিনেমার মান ছুঁতে হবে। ব্যবসায়িক স্বার্থে কাজ করলে এত দিনে হয়তো চার-পাঁচটি সিক্যুয়েল তৈরি হয়ে যেত, কিন্তু তিনি মান বজায় রাখার ক্ষেত্রেই আটকে যাচ্ছেন।
অনেকের ধারণা ছিল মুন্নাভাই ৩-এর কোনো চিত্রনাট্যই নেই, তবে এই ধারণা নাকচ করে দিয়েছেন আরশাদ ওয়ার্সি। তিনি জানান, সিনেমাটির জন্য তিনটি প্রায় সম্পূর্ণ চিত্রনাট্য লেখা হয়েছে এবং এগুলো তার শোনা অধিকাংশ গল্পের চেয়েও বেশি চমৎকার। আরশাদ মনে করেন, প্রতিটি গল্পেই কিছু বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে যা দর্শককে মুগ্ধ করবে। তবে তার মতে, প্রতিটি চিত্রনাট্যেই জিগস পাজলের শেষ টুকরোটির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগের অভাব রয়েছে। চিত্রনাট্যের শেষ অংশ বা গল্পের গতিপথ স্বাভাবিক করতে গিয়েই সমস্যা হচ্ছে, যা রাজকুমার হিরানি নিশ্চয়ই সমাধান করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে মুন্নাভাই সিরিজের জনপ্রিয় সংলাপ ও শব্দ নিয়েও আলোচনা করেন হিরানি। ‘জাদু কি ঝাপ্পি’ বা ‘গান্ধীগিরি’ যে পপ কালচারের বড় অংশ হয়ে উঠবে, তা তারা আগে কল্পনা করেননি। হিরানি জানান, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংলাপ লিখলে তা কৃত্রিম মনে হয়, তাই তারা স্বাভাবিকভাবেই গল্পগুলো তৈরি করেছেন। অন্যদিকে আরশাদ ওয়ার্সি মজার এক স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেন, সিনেমা শেষ হওয়ার পরপরই তিনি নিজের অভিনয় ভুলে যান। এমনকি দ্বিতীয় পর্বের সময় প্রথম পর্বের সার্কিট চরিত্র কীভাবে করেছিলেন, তা মনে ছিল না। তখন রাজকুমার হিরানি তাকে ভিডিও দেখিয়ে মনে করিয়ে দিতেন এবং তাকে পুনরায় সেই অভিনয় অনুকরণ করতে হতো।
বর্তমানে রাজকুমার হিরানি, চিত্রনাট্যকার অভিজাত যোশী, সঞ্জয় দত্ত ও আরশাদ ওয়ার্সির মধ্যে মুন্নাভাই ৩ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে। বিভিন্ন আইডিয়া ও গল্পের ওপর ভিত্তি করে তারা সেই ‘শেষ টুকরো’ বা সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছেন। সবশেষে রাজকুমার হিরানি আশার বাণী শুনিয়ে বলেন, কোনো না কোনো সময়ে মুন্নাভাই ৩ অবশ্যই তৈরি হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।