হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ২ এপ্রিল ২০২৬ , ২:৫১:০৯ প্রিন্ট সংস্করণ
ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন করে হাম ও রুবেলা সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে চার শিশু এ দুই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে—যার মধ্যে দুইজন হাম এবং দুইজন রুবেলায় আক্রান্ত।
সাম্প্রতিক এ পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিলেও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে তৎপর হয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে জ্বর, শরীরে লাল ফুসকুড়ি, কাশি এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, রুবেলা তুলনামূলক কম গুরুতর হলেও শিশু ও বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের মতে, নির্ধারিত সময়ে টিকাদান সম্পন্ন না হওয়া কিংবা টিকা গ্রহণে অনীহার কারণে এ ধরনের সংক্রমণ বাড়তে পারে। তাই শিশুদের এমআর (Measles-Rubella) টিকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, জ্বর ও ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফিরোজ জামান জুয়েল জানান, হাম মোকাবেলায় হাসপাতালে চার শয্যার একটি আইসোলেশন ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে হাম আক্রান্ত দুই শিশু চিকিৎসা নিয়ে সুস্থতার পথে রয়েছে এবং বর্তমানে তারা বাড়িতে চিকিৎসাধীন।
এদিকে, ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডা. আনিছুর রহমান বলেন, আক্রান্ত শিশুদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। ২০১৮ সালের পর বড় পরিসরে টিকাদান কার্যক্রম না হওয়ায় এ ধরনের সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, হাম সন্দেহে ছয় শিশুর নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলে, তার মধ্যে দুইজনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পাশাপাশি রুবেলায় আরও দুইজন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আশপাশের এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, উপসর্গ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।




















