সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা: ৪ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:১১:০২ প্রিন্ট সংস্করণ
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় এক অদ্ভুত ও নির্মম ঘটনার শিকার হয়েছেন প্রায় ৯১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। বাস্তবে জীবিত থাকলেও সরকারি কাগজপত্রে তাকে ‘মৃত’ দেখানো হয়েছে। ফলে গত ১৮ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে তার একমাত্র ভরসা—বয়স্ক ভাতা।
ভুক্তভোগী আব্দুল মজিত উপজেলার চন্ডিগড় ইউনিয়নের মউ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে নিয়মিত বয়স্ক ভাতা পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু প্রায় দেড় বছর আগে হঠাৎ করেই তার ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সরকারি তালিকায় তাকে মৃত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জীবিত থেকেও কাগজে ‘মৃত’ হয়ে যাওয়ার এই ভুলে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। আব্দুল মজিত বলেন, “আগে ভাতার টাকা পাইলে ওষুধ কিনতাম, ভালো কিছু খাইতাম। এখন দেড় বছর ধইরা কিছু পাই না। বুড়া অইছি, ভালো কিছু খাইবার মন লয়। আল্লাহ যদি ব্যবস্থা করেন, টাকাডা পাইতাম, একটু শান্তিতে বাঁচতে পারতাম।”
তার ছেলে আবুল বাসার জানান, ভাতা বন্ধ হওয়ার পর তিনি একাধিকবার উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। পরে সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তালিকায় তার বাবাকে মৃত দেখানো হয়েছে। এমনকি জীবিত প্রমাণ করতে বাবাকে নিয়ে সরাসরি অফিসে গেলেও এখনো কোনো সমাধান মেলেনি।
এ ঘটনায় বিস্মিত স্থানীয়রাও। এলাকাবাসী মাসউদুর রহমান ফকির বলেন, “চোখের সামনে জীবিত একজন মানুষকে কাগজে মৃত দেখানো চরম অবহেলার পরিচয়। দ্রুত ভুল সংশোধন করে যেন তিনি তার প্রাপ্য ভাতা ফিরে পান।”
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চন্ডিগড় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাঠানো হালনাগাদ তালিকায় আব্দুল মজিতকে মৃত দেখানো হয়। পাশাপাশি ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তার মৃত্যুর উল্লেখ করে একটি মৃত সনদও জমা দেওয়া হয়। এর ভিত্তিতে তার স্থলে প্রতিস্থাপন হিসেবে একই এলাকার আবুল কালাম নামে একজন বর্তমানে ভাতা পাচ্ছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তথ্য হালনাগাদের সময় তিনি আব্দুল মজিতকে মৃত হিসেবে দেখাননি।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুল তালুকদার বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাঠানো তালিকা ও প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতেই প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তিনি আবার ভাতা পাবেন।”
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, এমন গুরুতর ভুলের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং দ্রুত ভাতা চালু করার ব্যবস্থা নিতে হবে।




















