প্রতিনিধি ২৬ জুলাই ২০২৬ , ৩:১৪:৩১ প্রিন্ট সংস্করণ
কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ এনে ইউক্রেনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, হামলায় জাহাজে বিস্ফোরণ ঘটে একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
শনিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনাকে ‘শত্রুতাপূর্ণ ও অপরাধমূলক’ হামলা আখ্যা দিয়ে জানায়, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ইউক্রেন যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করার অভিযোগও তুলেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে (চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) তলব করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে তেহরানের কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, ইউক্রেনের বাহিনী কাস্পিয়ান সাগরে একটি রুশ যুদ্ধজাহাজ এবং ইরান-সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত কয়েকটি জাহাজে সফল হামলা চালিয়েছে।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি আরও অভিযোগ করেন, চলতি জুলাই মাসের শুরু থেকে রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলো এবং সেখানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর স্যাটেলাইট নজরদারি চালিয়ে সেই তথ্য ইরানের কাছে সরবরাহ করছে।
তার ভাষ্যমতে, ‘এসব স্থাপনার রুশ স্যাটেলাইট চিত্র পরবর্তীতে ইরানের হাতে পৌঁছায়। হামলার আগে লক্ষ্য নির্ধারণ, হামলার প্রস্তুতি এবং হামলার পর ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন সব ক্ষেত্রেই ওই তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে বলে স্পষ্ট মিল পাওয়া গেছে।’
জেলেনস্কি আরও বলেন, শুধু ১৯ ও ২০ জুলাই রাশিয়ার স্যাটেলাইট নজরদারির আওতায় ছিল চারটি বিমানঘাঁটি। এর মধ্যে দুটি বাহরাইনে, একটি জর্ডানে এবং একটি কুয়েতে অবস্থিত।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনকে রুশ বাহিনীর ব্যবহৃত ইরানি নকশার ড্রোন মোকাবিলা করতে হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ইরানের হামলার মুখে পড়া মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশকে ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি ও কৌশলগত সহায়তার প্রস্তাবও দিয়েছে কিয়েভ।
ইরানের অভিযোগ এবং ইউক্রেনের পাল্টা বক্তব্য নতুন করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের অভিযোগ স্বীকার করেনি।















