প্রতিনিধি ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১:১৭:১৫ প্রিন্ট সংস্করণ
পুরোনো অ্যালবামের পাতা উল্টালে যে ধরনের ছবি চোখে পড়ে, সেই আবহ এখন তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে। বর্তমান সময়ের ছবি ব্যবহার করে সেটিকে আশির দশকের পুরোনো ছবির আদলে রূপ দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা। ফলে আজকের সেলফিই হয়ে উঠছে চার দশক আগের কোনো স্মৃতির মতো। এটি সাধারণ কোনো ভিনটেজ ফিল্টারের ব্যবহার নয়। এআইয়ের মাধ্যমে ছবির পোশাক, চুলের ধরন, আলো, ব্যাকগ্রাউন্ড এমনকি ছবির দানাদার টেক্সচারও বদলে দেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই ছবিটি যেন বর্তমান সময়ে তোলা বলে মনে না হয়, বরং সত্যিই আশির দশকের কোনো ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছিল এমন অনুভূতি তৈরি করে।
ইনস্টাগ্রামের ‘অ্যাড ইউরস’ স্টিকারকে ঘিরে এই প্রবণতা আরও ছড়িয়ে পড়েছে। একজন নিজের তৈরি করা ছবি পোস্ট করার পর অন্যরাও একই ধরনের ছবি বানিয়ে অংশ নিচ্ছেন। এতে বন্ধু ও পরিচিতদের মধ্যে অনেকটা প্রতিযোগিতার মতো করে ছড়িয়ে পড়ছে আশির দশকে ফিরে যাওয়ার এই ভার্চুয়াল আয়োজন।
ছবিতে ফিরছে পুরোনো দিনের সাজ
এআই দিয়ে তৈরি এসব ছবিতে আশির দশকের ফ্যাশনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশি আবহ তৈরি করতে নারীদের ক্ষেত্রে শাড়ি, ঘন বা ভলিউমযুক্ত চুল, চোখে-মুখে সেই সময়ের মেকআপ এবং নজরকাড়া গয়নার ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। পুরুষদের ছবিতে যুক্ত হচ্ছে সে সময়ের শার্ট, হাই-ওয়েস্ট প্যান্ট কিংবা গোঁফের মতো বৈশিষ্ট্য। শুধু পোশাক নয়, পুরোনো স্টুডিও, রাস্তার দৃশ্য কিংবা সাদামাটা ঘরোয়া পরিবেশও ছবির অংশ করে নেওয়া হচ্ছে। অনেকের কাছে এই প্রবণতা নিছক বিনোদন হলেও এর মধ্যে ব্যক্তিগত নস্টালজিয়ার বিষয়টিও কাজ করছে। এমন এক সময়কে কল্পনা করা হচ্ছে, যখন ডিজিটাল ক্যামেরা বা স্মার্টফোন ছিল না; ছবি তোলার পর সেটি অ্যালবামে জমিয়ে রাখাই ছিল স্মৃতি ধরে রাখার অন্যতম উপায়।
নিজের পরিচয় ঠিক রেখেই বদলে যাচ্ছে সময়
এআই দিয়ে ছবি তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হচ্ছে ছবির মানুষটিকে যেন অযথা পরিবর্তন করা না হয়। এজন্য নির্দেশনায় মুখের গঠন, বয়স, ত্বকের রং ও স্বাভাবিক অভিব্যক্তি অপরিবর্তিত রাখার কথা বলা হচ্ছে। অর্থাৎ, বদলটা ব্যক্তির মধ্যে নয়; বরং তার চারপাশের সময় ও পরিবেশে। আধুনিক একটি ছবির মানুষকে একই রেখে তার পোশাক, চুল, আলো ও ব্যাকগ্রাউন্ডকে আশির দশকের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
কীভাবে বানাবেন আশির দশকের ছবি?
প্রথমে একটি পরিষ্কার সেলফি বা পোর্ট্রেট ছবি এআই-ভিত্তিক ছবি তৈরির টুলে আপলোড করতে হবে। এরপর কাঙ্ক্ষিত সময়কাল ও দৃশ্যের বর্ণনা দিতে হবে। শুধু ‘৮০-এর দশকের ছবি’ বলার পরিবর্তে পোশাক, চুল, মেকআপ, স্টুডিও, আলো এবং ছবির ধরন সম্পর্কে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিলে ফলাফল আরও কাছাকাছি আসতে পারে। উদাহরণ হিসেবে এমন নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে- ‘ছবির ব্যক্তির মুখের বৈশিষ্ট্য, পরিচয়, বয়স, ত্বকের রং ও স্বাভাবিক অভিব্যক্তি অপরিবর্তিত রেখে ছবিটিকে ১৯৮০-এর দশকে তোলা একটি বাস্তবসম্মত পোর্ট্রেটে রূপ দিন। পোশাক, চুল ও মেকআপে আশির দশকের ছাপ রাখুন। পেছনে পুরোনো স্টুডিও বা সে সময়ের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করুন। ৩৫ মিমি ফিল্মের স্বাভাবিক দানা, উষ্ণ টোন, নরম ফ্ল্যাশ এবং বাস্তবসম্মত ত্বকের টেক্সচার ব্যবহার করুন। ছবিটি যেন আধুনিক ছবিতে ভিনটেজ ফিল্টার দেওয়ার মতো না দেখায়।’
বাংলাদেশের আবহ আরও স্পষ্ট করতে চাইলে ‘আশির দশকের বাংলাদেশের ফ্যাশন’, ‘পুরোনো ঢাকার রাস্তা’ কিংবা ‘সে সময়ের ফটো স্টুডিও’এ ধরনের নির্দিষ্ট বর্ণনাও যোগ করা যায়।
পোস্ট করার আগে যা খেয়াল করবেন
এআইয়ের তৈরি ছবি সবসময় নিখুঁত নাও হতে পারে। বিশেষ করে হাত ও আঙুলের গঠন, মুখের সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য কিংবা ব্যাকগ্রাউন্ডের কোনো লেখা অস্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে। তাই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের আগে সেটি ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে একই ছবির জন্য কয়েকবার নির্দেশনা পরিবর্তন করে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যেতে পারে। এভাবেই একটি সাধারণ বর্তমান ছবিকে কল্পনার আশির দশকে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তির এই প্রবণতা তাই শুধু ছবি সম্পাদনার নতুন কৌশল নয়; বরং অতীতকে নিজের মতো করে কল্পনা করারও এক ধরনের ডিজিটাল অভিজ্ঞতা। স্মার্টফোনে তোলা আজকের একটি ছবিই কয়েকটি নির্দেশনায় হয়ে উঠছে এমন এক স্মৃতি, যা বাস্তবে কখনো তোলা হয়নি।















