প্রতিনিধি ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৭:২৭:৩৪ প্রিন্ট সংস্করণ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত ফেরত দিলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। আজ মঙ্গলবার মাদারীপুর জেলা প্রশাসক এর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রধানমন্ত্রী, যিনি ইতোমধ্যে সাজাপ্রাপ্ত দণ্ডপ্রাপ্ত। তিনি এবং তার দলের বহু লোকজন ওখানে পালিয়ে আছে, তারাও সাজাপ্রাপ্ত, ভারতে পালিয়ে আছেন। ভারতের সঙ্গে আমাদের এক্সট্রাডিশন (প্রত্যর্পণ) চুক্তির আওতায় আমরা কিন্তু সেই কমিউনিকেশন (যোগাযোগ) ভারত সরকারের সঙ্গে করছি। ভারত সরকার বলেছে এটি একটি আইনগত ব্যাপার। তাদের বিচার বিভাগ এটা দেখছে।’
তিনি বলেন, ‘এখানে পার্থক্যটা হচ্ছে উনি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। কোথায় বসে কী বলছে, এটা বিবেচ্য বিষয় না বাংলাদেশ সরকার জন্য। বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারের সঙ্গে কমিউনিকেশনে আছে। যখনই এক্সট্রাডিশনের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ফেরত দেওয়া হবে, তখনই বাংলাদেশের আইনে তাকে অ্যারেস্ট (গ্রেপ্তার) করা হবে এবং জেলে যেতে হবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন।’
মক্কা চুক্তি প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এখন এই জোটে বাংলাদেশ যাবে কি না এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোন জোটে যুক্ত হওয়ার আগে আমাদের দেশের যে পলিসি সেই পলিসি মেইন্টেন করেই আমরা আসলে সিদ্ধান্ত নেব। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর যে ভিশন সবার আগে বাংলাদেশ। যে কোনো গ্রুপে যুক্ত হওয়ার আগে আমরা দেখব যে সেটা বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কি না। এর উপকার আসবে কি না, সেটা বিবেচনা করে আমরা জোটে যাব।’
মানবপাচার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মানবপাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের ১৪টি জেলা নিয়ে কাজ করেছি। ইতোমধ্যে মাদারীপুর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মাদারীপুরের মানবপাচার বিষয়টি আন্তর্জাতিক দালালচক্রের একটি বিষয়। দেশ এবং বিদেশে এই দালালচক্র অবস্থান করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী যারা রয়েছেন, আমি তাদেরকে বলব, যে আপনারা এই দালালদের আইডেন্টিফাই করেন। দালালদের নাম পরিচয় আপনাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দেন। তাহলে আমরা চেষ্টা করতে পারি, হয়তো আমরা আন্তর্জাতিকভাবে তাদেরকে ধরার চেষ্টা করতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি কেউ যদি বিদেশে বসে আমাদের দেশের মানুষদের মানবপাচারে করে বা করছে আপনাদের কাছে কোন তথ্য থাকলে অবশ্যই আমাদের সেটা দেবেন। আমাদের সরকার সেটা সচেষ্টভাবে সমাধান করবে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য অপরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে একটি কমিটি করে দিয়েছি এ বিষয়ে কাজ করার জন্য। লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার প্রবনতা রোধ করার জন্য আমরা একাধিকবার ইতালি সরকার লিবিয়া সরকারের সঙ্গে বসেছি কীভাবে সমাধান করা যায়।’
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) জানদার আলী মিয়া, মাদারীপুর-৩ আসনের এমপি আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার, মাদারীপুর-১ আসনের এমপি সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা, সংরক্ষিত আসনের এমপি হেলেন জেরিন খান। সভায় সভাপতিত্ব করেন মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার। সভায় পুলিশ সুপার, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





















