প্রতিনিধি ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২:১১:৫৭ প্রিন্ট সংস্করণ
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং মনে করেন, বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টি লিগের সংখ্যা বাড়তে থাকায় আগামী বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচিতে ওয়ানডের গুরুত্ব ক্রমেই কমতে পারে। তবে বড় ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলো টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ ধরে রাখলে এই সংস্করণ শক্ত অবস্থানে থাকবে বলে বিশ্বাস তার।
পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পন্টিং বলেন, ‘মাস ও বছর যত এগোবে, বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পরিমাণ যত বাড়বে এবং আরও বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ও প্রতিযোগিতা শুরু হবে, ততই ওয়ানডে ক্রিকেট কম খেলার সম্ভাবনা বাড়বে। এটা অনিবার্য। সত্যি বলতে, বিষয়টি আমার খুব একটা পছন্দ নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এই সংস্করণে খেলতে খুব ভালোবাসি। কিন্তু কোথাও না কোথাও একটা সংস্করণকে জায়গা ছাড়তেই হবে। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং সম্ভবত দক্ষিণ আফ্রিকা যতদিন টেস্ট ক্রিকেটকে শক্তিশালী রাখতে চাইবে, ততদিন টেস্ট ক্রিকেটও শক্ত অবস্থানে থাকবে। তাই কোনো না কোনোভাবে জায়গা ছাড়তে হবে। আর সবচেয়ে স্বাভাবিকভাবেই ওয়ানডে ক্রিকেটই সেই জায়গাটি ছাড়বে।’
বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টি লিগের বিস্তার এবং এর ফলে ক্রিকেটারদের জন্য অতিরিক্ত ম্যাচের চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন পন্টিং। তাঁর মতে, বাড়তে থাকা ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতাগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সূচিতে জায়গা করে নিতেই হবে। একই সঙ্গে এসব প্রতিযোগিতা অনেক ক্রিকেটারের খেলোয়াড়ি জীবনও দীর্ঘ করছে বলে মনে করেন তিনি।
পন্টিং বলেন, ‘এই মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে আয়োজিত এসব প্রতিযোগিতা থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছেন ক্রিকেটাররাই। কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের মতো একটি প্রতিযোগিতা ক্যারিয়ারের শেষ দিকে থাকা অনেক ক্রিকেটারকে উপার্জনের সুযোগ করে দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডেভিড ওয়ার্নারের মতো যারা এখনো সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলছেন, কিন্তু ক্যারিয়ারের শেষ দিকে চলে এসেছেন, তাদের জন্য কিংবদন্তিদের এই ধরনের প্রতিযোগিতা দারুণ একটি সুযোগ। তারা ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়েও আবার মাঠে ফিরতে পারেন।’
গত মাসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্ত বলেছিলেন, ‘এলোমেলোভাবে আয়োজন করা দ্বিপক্ষীয় সিরিজের যুগের অবসান হওয়া উচিত।’ তবে বহুল আলোচিত ওয়ানডে সংস্করণ বিশ্বকাপের সঙ্গে ‘অবিচ্ছেদ্যভাবে’ যুক্ত থাকলে টিকে থাকার পাশাপাশি আরও শক্তিশালী হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেছিলেন।
অস্ট্রেলিয়া চ্যাম্পিয়নস দলের অধিনায়ক হওয়া ডেভিড ওয়ার্নার মনে করেন, ভবিষ্যতে ক্রিকেটও ক্লাব ফুটবলের মতো কাঠামোর দিকে এগোতে পারে। তবে সেই পথে বেশ কিছু বাধা রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।
ওয়ার্নার বলেন, ‘আমি সবসময় ভেবেছি, সময়ের সঙ্গে ক্রিকেট সম্ভবত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের মতো একটি কাঠামোর দিকে যাবে। কিন্তু ক্রিকেটের ক্ষেত্রে সমস্যা হলো, বিশ্বজুড়ে এত বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতা রয়েছে যে বিষয়টি খুব কঠিন।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশীয় ও বিদেশি ক্রিকেটারের সংখ্যার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে নিয়ম পুরোপুরি বদলাতে হবে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে একটি দলে যতজন বিদেশি খেলোয়াড় খেলবে, সেই সীমাবদ্ধতা ক্রিকেটেও একইভাবে প্রয়োগ করা সহজ হবে না।’
ওয়ার্নারের মতে, কোন দেশে কোন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তার ওপর খেলোয়াড় নির্বাচনের নিয়ম নির্ভর করতে পারে। তিনি বলেন, ‘সব লিগের ক্ষেত্রেই বিষয়টি একই। আপনি যে দেশে খেলছেন, সেই দেশের নিয়ম অনুযায়ী সবকিছু নির্ধারিত হবে। ভারত হলে ভারতের নিয়ম, পাকিস্তান হলে পাকিস্তানের নিয়ম, আর অস্ট্রেলিয়ায় খেললে অস্ট্রেলিয়ার নিয়ম।’
বাড়তে থাকা টি-টোয়েন্টি সূচি ক্রিকেটারদের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, তেমনি নতুন খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগও সৃষ্টি করছে বলে মনে করেন ওয়ার্নার। বিশেষ করে সহযোগী দেশগুলোর ক্রিকেটাররা এতে উপকৃত হতে পারেন।
তিনি বলেন, ‘এখন এত বেশি টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা হচ্ছে যে খেলোয়াড়দের জন্য সূচি সামঞ্জস্য করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সূচি যেমন আছে, তেমনই থাকবে। কেউ যদি প্রতিটি প্রতিযোগিতায় খেলতে চান, তাহলে বিশ্রামের সুযোগ থাকবে না। তবে এটি অন্য খেলোয়াড় এবং সহযোগী দেশগুলোর ক্রিকেটারদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করছে।’





















