প্রতিনিধি ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১:৪৪:২৪ প্রিন্ট সংস্করণ
হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন চালকবিহীন সাবমেরিন আটক করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। মঙ্গলবার দেওয়া এ দাবিকে ঘিরে সামরিক অভিযানে পানির নিচের অত্যাধুনিক ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আটক করা সাবমেরিনটি ‘ডাইভ-এলডি’ মডেলের একটি বড় স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ভেহিকল (এইউভি)। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল এটি তৈরি করেছে।
আইআরজিসির নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে তারা মার্কিন বাহিনীর ‘অত্যাধুনিক, বুদ্ধিমান ও চালকবিহীন’ একটি সাবমেরিন আটকে দিয়েছে। এতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।
তবে ইরানের এই দাবির সঙ্গে ভিন্নমত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। এক মুখপাত্র বলেছেন, পানির নিচে ব্যবহৃত একটি ড্রোন এক দিনেরও বেশি সময় আগে ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়েছিল।
পেন্টাগনের ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি ওই অঞ্চলের পানিসীমা পর্যবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত ছিল এবং চলমান সামরিক অভিযানে সহায়তা করছিল। তবে এটি পুরোনো মডেলের একটি ড্রোন ছিল এবং এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা কিংবা গোপনীয় সোনার বা রাডার সরঞ্জাম ছিল না।
ড্রোনটি হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলও। তবে ঘটনাটির গুরুত্ব কমিয়ে দেখিয়েছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন, ডাইভ-এলডি এমন একটি ‘অ্যাট্রিশনেবল’ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, যা শুরু থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পরিচালনার জন্য তৈরি এবং প্রয়োজনে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিকেও এর নকশার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
অ্যান্ডুরিলের তথ্য অনুযায়ী, ডাইভ-এলডি টানা ১০ দিন পর্যন্ত ঘাঁটিতে ফিরে না গিয়েও পানির নিচে কার্যক্রম চালাতে পারে। এটি সর্বোচ্চ প্রায় ৬ হাজার মিটার গভীরতায় ডুব দিতে সক্ষম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৫ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ এই সাবমেরিনটি সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয়করণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং কেবল ও পাইপলাইনের মতো পানির নিচের অবকাঠামো পরিদর্শনে ব্যবহার করা যায়।
মার্কিন সামরিক বাহিনী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চালকবিহীন নৌযান, বিশেষ করে পানির নিচে ও পানির ওপর চলাচলকারী স্বয়ংক্রিয় যান ব্যবহারে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। এর লক্ষ্য হলো তুলনামূলক কম খরচে সমুদ্রের বিশাল এলাকা পর্যবেক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং প্রতিপক্ষের জাহাজ ও সাবমেরিন শনাক্ত করা এবং এসব কাজে নৌসেনাদের সরাসরি ঝুঁকিতে না ফেলা।















