প্রতিনিধি ৪ জুলাই ২০২৬ , ১২:০৩:৫১ প্রিন্ট সংস্করণ
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী তেহরানে জড়ো হয়েছেন লাখো শোকাহত মানুষ। রাষ্ট্রীয় জানাজাকে ঘিরে শহরজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। হাতে জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও সাদা ফুল নিয়ে হাজারো মানুষ শেষবারের মতো প্রিয় নেতাকে বিদায় জানাতে উপস্থিত হন।
রাজধানীর গ্র্যান্ড মোসাল্লায় কাচের কফিনে রাখা খামেনির মরদেহ জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করা হলে শোকাহত মানুষের ঢল নামে। তীব্র গরম উপেক্ষা করে অনেককে বুকে আঘাত করে মাতম করতে এবং অশ্রুসিক্ত চোখে বিদায় জানাতে দেখা যায়। নারীদের বিলাপ আর শোকের আবহে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শোকাহত জনতা একসঙ্গে ‘প্রতিশোধ! প্রতিশোধ!’ স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের দাবি, খামেনির মৃত্যুর জন্য দায়ীদের জবাব দিতে হবে।
অন্যদিকে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকা সড়কজুড়ে হাজার হাজার মানুষ শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন। অনেক নারীকে সাদা ফুলের তোড়া হাতে নিয়ে হাঁটতে দেখা যায়। অনেকে ব্যানার বহন করেন এবং রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত বড় বড় বিলবোর্ডে খামেনির ছবি প্রদর্শন করা হয়।
প্রচণ্ড গরমের মধ্যে শোকাহত মানুষের কষ্ট কমাতে আয়োজকরা পানি ছিটিয়ে শীতল পরিবেশ তৈরির ব্যবস্থা করেন। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, তেহরানে এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। অধিকাংশ মানুষই কালো পোশাক পরে জানাজায় অংশ নেন।
২৭ বছর বয়সী শোকাহত হানানেহ মুসাভি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, ‘আমি আমার প্রিয় নেতা আলী খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে এসেছি। জীবনে এমন একটি দিন দেখতে হবে, কখনো কল্পনাও করিনি। এই ট্র্যাজেডির আগে যদি আমার মৃত্যু হতো, সেটাই ভালো হতো।’
অন্যদিকে, তাবরিজ শহর থেকে প্রায় ৫৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তেহরানে আসা আলী কাজেমি বলেন, ‘আমরা এই জানাজায় অংশ নিয়েছি এটা দেখানোর জন্য যে, আমরা সবাই আমাদের দেশ ও ধর্ম রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
ইরানের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ এই রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজধানী তেহরানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা লাখো মানুষের পাশাপাশি বিদেশি প্রতিনিধি ও অতিথিদের উপস্থিতিতে জানাজা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।









