প্রতিনিধি ৪ জুলাই ২০২৬ , ১:০৫:০০ প্রিন্ট সংস্করণ
ইউরোপজুড়ে গত জুনের শেষ দিকে বয়ে যাওয়া তীব্র দাবদাহে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এর ফলে কেবল ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসেই অন্তত ৩,৭০০ জনের অতিরিক্ত মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি প্রাথমিক হিসাব; চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশের পর মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত স্থায়ী এই দাবদাহটি ইউরোপের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ ছিল। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে, বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চরম চাপের মুখে পড়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই চরম তাপপ্রবাহের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রায় নিশ্চিত।
ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টিফানি রিস্ট জানান, তাপদাহের সময় দেশটিতে অতিরিক্ত ২ হাজার ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষ করে ৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ফ্রান্সের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের এক বুলেটিনে বলা হয়, ২২ থেকে ২৮ জুন আগের সপ্তাহের তুলনায় বাড়িতে মৃত্যুর সংখ্যা ৯১ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে নার্সিং হোম ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বেলজিয়ামের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানায়, ১৮ থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত দেশটিতে অতিরিক্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ৫৩০ জন রয়েছেন। এ ছাড়া ৬৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে অতিরিক্ত ১৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘তাপদাহের সময় এ ধরনের অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা আমাদের দেশে নজিরবিহীন।’
নেদারল্যান্ডসের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তীব্র তাপদাহের কারণে দেশটিতে প্রায় ৪৮০ জনের অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সী ছিলেন।
সংবাদমাধ্যম এএফপি-এর একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইউরোপের ৪১ কোটি জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষ এই দাবদাহে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা অনুভব করেছেন। জার্মানি, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র এবং হাঙ্গেরিতে এ যাবৎকালের সব রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা তৈরি হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ডে জুনের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। ফ্রান্সেও ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম রাত রেকর্ড করা হয়েছে।





















