আন্তর্জাতিক

তৃণমূল সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ নিল বিদ্রোহী শিবির

  প্রতিনিধি ৪ জুলাই ২০২৬ , ১২:৫৩:১৯ প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সর্ব ভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ঋতব্রত ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির এবার কলকাতার মেট্রোপলিটন এলাকার দলটির প্রধান কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে।

শুক্রবার বিদ্রোহী নেতারা দলের কয়েকজন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান এবং দলের কোষাধ্যক্ষ আকরুজ্জামান। কার্যালয়ে ঢোকার পর তারা প্রধান ফটকের তালা পরিবর্তন করেন, নতুন পোস্টার টানান এবং ভবনের ভেতরে বৈঠক করেন।

ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

বৈঠক শেষে বিদ্রোহী শিবির ঘোষণা দেয়, এখন থেকে এই ভবনই তাদের দলের আনুষ্ঠানিক সদর দপ্তর হিসেবে পরিচালিত হবে। দলের কোষাধ্যক্ষ আকরুজ্জামান বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে এই কার্যালয়ের আবেগের সম্পর্ক রয়েছে। ভবনের মালিকদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন থেকে দলের সব সাংগঠনিক কার্যক্রম এখান থেকেই পরিচালিত হবে।

বিদ্রোহীরা ভবনের সামনে নতুন পোস্টার টাঙিয়ে জ্যেষ্ঠ বিধায়ক অরূপ রায়কে সর্ব ভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে ভবনের ভেতরে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ও কাটআউট সরানো হয়নি।

ঋতব্রত ব্যানার্জী বলেন, শনিবার থেকে তাদের শিবির আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যালয় থেকেই দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তিনি দাবি করেন, ‘আমরাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস। এটাই আমাদের সদর দপ্তর।’

২০২২ সাল থেকে ভবনটি তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যক্রম পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মূল কার্যালয়ের সংস্কারকাজ চলাকালে দলটি সেখানে স্থানান্তরিত হয়েছিল।

ঋতব্রত ব্যানার্জী ও তার সহযোগীরা ভারতের নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকের একদিন পরই কার্যালয় দখলের এই ঘটনা ঘটে। ওই বৈঠকে তারা দলের নাম, প্রতীক, সাংগঠনিক কাঠামো এবং সম্পদের ওপর নিজেদের দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশন উভয় পক্ষকে আগামী ৬ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে দলের সাংগঠনিক নির্বাচন, অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী এবং দলের নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত নথি ও পাল্টা দাবি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

এদিকে কার্যালয় দখলের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত তৃণমূল বিধায়কেরা সেখানে পৌঁছালে তারা ফটকে তালাবদ্ধ অবস্থার মুখে পড়েন এবং ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি।

তৃণমূলের জ্যেষ্ঠ নেতা কুণাল ঘোষ এই ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দলের যেকোনো বিধায়কের দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার অধিকার রয়েছে। তাহলে সেখানে তালা লাগানোর প্রয়োজন কেন?

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘তৃণমূলের কর্মীরা কোথাও আক্রান্ত হলে তাদের পাশে দাঁড়ানোর বদলে এরা অন্যের হাতের পুতুল হয়ে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত শিবির অভিযোগ করেছে, বিদ্রোহীদের এই পদক্ষেপে রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশের নীরব সমর্থন রয়েছে। তবে বিদ্রোহী শিবির এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে।

গত মাসে বিদ্রোহীরা এক বিশেষ অধিবেশনে অরূপ রায়কে দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে। এর আগে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতা পদে ঋতব্রত ব্যানার্জীর দাবির পক্ষে দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন সমর্থন জানিয়েছিলেন। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, বর্তমানে তাদের সঙ্গে প্রায় ৬৫ জন বিধায়ক রয়েছেন।

অন্যদিকে, তৃণমূলের ২৮ জন লোকসভা সদস্যের মধ্যে ২০ জন ইতোমধ্যে দলত্যাগ করে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এ যোগ দিয়েছেন এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছেন। পাশাপাশি দলের আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছেন।

দলটির নাম, নির্বাচনী প্রতীক, সাংগঠনিক কাঠামো এবং আর্থিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের আসন্ন সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, তৃণমূল কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক বৈধতা শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষের হাতে থাকবে।

আরও খবর

Sponsered content